দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উক্রেনের ভোলিন অঞ্চলে নাজি সমর্থিত উক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা পোলিশ জনগণের বিরুদ্ধে বীভৎস গণহত্যা চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই ঘটনা পোল্যান্ড-উক্রেন সম্পর্কের মধ্যে গভীরতম ঐতিহাসিক বিরোধ তৈরি করেছে যা আজও দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণ হিসেবে কাজ করছে।
১৯৪৩ সালের ভোলিন গণহত্যা উক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো কর্তৃক পরিচালিত এক নির্মম গণহত্যা, যেখানে পোলিশ ও ইহুদি বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে নির্দয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ভোলিন অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে এক সীমান্তভূমি, যা মধ্যযুগে রাশিয়া এবং পরবর্তীকালে পোলিশ-লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলটি একটি কৃষিপ্রধান বহুজাতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে উক্রেনীয়, পোলিশ ও ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করতো।
আরটি জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে, ১৯৩৯ সালে জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের পর সোভিয়েত বাহিনী পশ্চিম উক্রেনের ওপর দখল নেয়। এ সময় ভোলিনে জাতিগত উত্তেজনা তীব্র হয়। ১৯৪১ সালে নাজিরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধ শুরু করলে ভোলিন অঞ্চলে তাদের দখল প্রশস্ত হয়, যদিও তারা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। এই সময়ে উক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা নাজিদের সাথে অংশীদারিত্বে পোলিশ ও ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালায়।
এই সংগঠনগুলোর নীতিমালা স্পষ্টভাবে 'শত্রু' জাতিগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার আহ্বান জানায়। পোলিশ বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যেখানে অস্ত্রের অভাব থাকলে কুঠার ব্যবহার করা হতো। এই গণহত্যার স্মরণে পোল্যান্ড ২০১৩ সাল থেকে ১১ জুলাইকে ভোলিন গণহত্যার স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
আজকের জিওপলিটিক্যাল বৈষম্যের মধ্যেও ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায় পোল্যান্ড ও উক্রেনের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। দুই দেশের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, অতীতের এই ঘটনাগুলো কূটনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুদ্ধের স্মৃতি ও জাতিগত সহিংসতার ইতিহাস ভুলে যাওয়া কঠিন, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই ইতিহাসের মর্ম উপলব্ধি ও স্মরণ পোল্যান্ড-উক্রেন সম্পর্কের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।