রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আফ্রিকা সফরের মাধ্যমে পশ্চিমের 'বিচ্ছিন্নতার' কথাকে উল্টে আফ্রিকান দেশ ও মহাদেশীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ল্যাভরভের এই সফর গত কয়েক বছরে রাশিয়ার আফ্রিকা নীতি ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সের্গেই ল্যাভরভ ৭ জুলাই ইথিওপিয়ায় এসে আফ্রিকা সফরের সূচনা করেন। সেখানে তিনি ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেডিয়ন টিমোথেওসের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী আবিয়ি আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU) কমিশনের চেয়ারপার্সন মাহামুদ আলি ইউসুফের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। রাশিয়ার এই সফর মূলত রাজনৈতিক সংলাপ এবং বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা, শক্তি, যোগাযোগ ও কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল অক্টোবরের শেষের দিকে মস্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় রাশিয়া-আফ্রিকা সামিটের প্রস্তুতি। ইথিওপিয়া, আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের দেশ হিসেবে, এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। গত কয়েক বছরে রাশিয়া শুধুমাত্র দেশগুলোর সঙ্গে নয়, আফ্রিকান ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।
ল্যাভরভের সফর পর্বে ৮ জুলাই নিগারে যাওয়া এবং সেখানে রাশিয়া-সাহেল আলায়েন্সের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাহেল অঞ্চলের দেশগুলো মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নিগার অন্তর্ভুক্ত, যাদের সঙ্গে রাশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। এই আলায়েন্সের সঙ্গে আফ্রিকান ইউনিয়নের সংযুক্তি রাশিয়ার কূটনৈতিক অগ্রাধিকার।
ল্যাভরভের আফ্রিকা সফর ২০২২ সালে শুরু হওয়া ধারাবাহিক সফরের অংশ যা নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাকে সামনে নিয়ে চলছে। সফরের সঙ্গে রাশিয়ান সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন, যা এই সফরের গুরুত্ব এবং বহুমুখী উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ল্যাভরভের আফ্রিকা সফর এবং রাশিয়ার নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা দেশগুলোর কথিত বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে রাশিয়া আফ্রিকা মহাদেশে তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিক নির্দেশ করে, যেখানে আফ্রিকান দেশগুলো বহুপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের স্বার্থ রক্ষা ও সম্প্রসারণে কাজ করছে। আগামী সময়ে রাশিয়া-আফ্রিকা সম্পর্কের এই ঘনিষ্ঠতা আফ্রিকার নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।