এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এর বার্ষিক সম্মেলন এবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সহ কয়েকটি বোর্ড এই বৈঠক স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জোর দিয়ে বলেছেন, সকল সদস্যকে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে।
এশিয়া কাপ ২০২৫ এর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই বৈঠকে। গত বছর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেলে এশিয়া কাপ আয়োজনের পর এবারও একই মডেল অনুসরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিসিসিআই ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঢাকায় প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারবে না।
বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেছেন, "২৩ জুলাই আমরা আনুষ্ঠানিক ডিনার এবং ২৪ জুলাই ঢাকায় এসিসি জেনারেল মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়ার সকল ক্রিকেট বোর্ড এতে অংশ নেবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন, আমরা এই বৈঠক সফলভাবে আয়োজন করব।"
শাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি প্রধান। তিনি বলেন, "শাকিব এখনও সব ফরম্যাট থেকে অবসর নেননি। আমরা তার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।" গত কয়েক মাস ধরে আইনি জটিলতায় জড়িত থাকায় শাকিবের ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
এদিকে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও এই বৈঠক বয়কটের হুমকি দিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসিসি সভায় উপস্থিতি না থাকলে এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রিকেট অঙ্গনকেও প্রভাবিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গতবারের মতো এবারও হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করা হতে পারে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ পাকিস্তানে আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর এশিয়া কাপ নিয়েও অনুরূপ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ক্রিকেট প্রশাসকরা জানান, যদি বিসিসিআই ও এসএলসি প্রতিনিধিরা ঢাকায় না আসেন, তাহলে ভার্চুয়ালি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে বিসিবি জোর দিয়ে বলেছে, শারীরিক উপস্থিতিই কাম্য। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
