ম্যানচেস্টারের ঐতিহাসিক ওল্ড ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ফারুখ ইঞ্জিনিয়ারের নামে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়েছে। ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের এই উদ্যোগে ক্রিকেটবিশ্বে তৈরি হয়েছে সম্মানের এক অনন্য নজির।
চতুর্থ টেস্টে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে এই স্ট্যান্ড উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তার প্রাক্তন ল্যাঙ্কাশায়ার সতীর্থ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড।
ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার ভারতের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাত। তার জন্ম ১৯৩৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইয়ে। পেশাদারিত্ব ও দক্ষতায় তিনি ভারতের হয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ৪৬টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ২৬১১ রান করেছেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৬টি অর্ধশতক ও ২টি শতক। গড় ছিল ৩১.০৮, যা সে সময় একজন কিপারের জন্য যথেষ্ট প্রশংসনীয়।
উইকেটের পেছনে তার তৎপরতা এবং গ্লাভসের নিখুঁত ব্যবহার তাকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তোলে। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও বেশ কয়েকবার তিনি দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন দুর্দান্ত স্ট্রোক প্লে দিয়ে।
ভারতের হয়ে খেলার পাশাপাশি ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার মুম্বাইয়ের হয়ে ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন। ৩৩৫টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৩,৪৩৬ রান, যেখানে রয়েছে ১৩টি শতক ও ৬৯টি অর্ধশতক।
তবে শুধু ভারতে নয়, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও ফারুখ ছিলেন একজন পরিচিত মুখ। ল্যাঙ্কাশায়ার ক্লাবের হয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় এক দশক খেলেছেন, যা তাকে ইংলিশ ক্রিকেটে একজন গুরুত্বপূর্ণ নাম করে তোলে।
১৯৬৮ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে তিনি ৫৯৪২ রান করেন, সঙ্গে ৪২৯টি ক্যাচ ও ৩৫টি স্ট্যাম্পিং করেন। এই পারফরম্যান্স তাকে ক্লাবের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।
ফলস্বরূপ, ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেট ক্লাব তাদের এই গর্বিত প্রাক্তন খেলোয়াড়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে একটি স্ট্যান্ডের নাম দেন "Farokh Engineer Stand"। এটি উন্মোচন করা হয় ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের প্রথম দিনে।
ভারতের অনেক আধুনিক কিপার-ব্যাটসম্যান আজও ফারুখ ইঞ্জিনিয়ারকে আদর্শ মানেন। তার সাহসী খেলা, স্পোর্টসম্যানশিপ এবং বিদেশের মাটিতে সাফল্য তাকে আজীবন স্মরণীয় করে রেখেছে।
এই সম্মান শুধুমাত্র একটি স্ট্যান্ডের নাম নয়, বরং এটি ভারতীয় ক্রিকেটের গর্ব, ফারুখ ইঞ্জিনিয়ারের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।