ম্যানচেস্টারের ঐতিহাসিক মাঠে টেস্ট অভিষেক হচ্ছে ভারতের তরুণ পেসার আনশুল কম্বোজের। হরিয়ানার এই পেসার পেয়েছেন জীবনের বড় সুযোগ, যা এসেছে আকাশ দীপ ও অর্শদীপ সিংয়ের চোটের কারণে।
২০২৫ সালের এই টেস্ট সিরিজে কম্বোজের অভিষেক অনেক স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কারণ, ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার অনিল কুম্বলেও ঠিক এই মাঠেই টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৯৯০ সালে।
কিন্তু এখানেই থেমে নেই মিল। কুম্বলে ও কম্বোজের টেস্ট যাত্রার মাঝে রয়েছে আরও দুটি অবাক করা সাদৃশ্য, যা নতুন প্রজন্মের এই পেসারকে আরও স্পেশাল করে তুলেছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুইজনেরই ১০ উইকেটের কীর্তি
১৯৯৯ সালে দিল্লিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনিল কুম্বলে গড়েছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ কীর্তি—এক ইনিংসে ১০ উইকেট। তাঁর ১০/৭৪ পরিসংখ্যান আজও ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বোলিং স্পেল হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, আনশুল কম্বোজ ২০২৪ সালের রঞ্জি ট্রফিতে হরিয়ানার হয়ে কেরালার বিপক্ষে ১০ উইকেট নেন। ৩০.১ ওভার বোলিং করে ৪৯ রানে ১০ উইকেট নিয়ে হন রঞ্জি ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় বোলার, যিনি এক ইনিংসে এমন কীর্তি গড়েন।
এই রেকর্ড দুই প্রজন্মের দুই বোলারকে একই বন্ধনে বেঁধে ফেলেছে। একজন লেগস্পিনার, আরেকজন পেসার—তবু উইকেট নেওয়ার প্রবল ক্ষুধা দুইজনের মধ্যেই সমান।
উভয়ের নামের আদ্যক্ষর ‘AK’
কম্বোজ ও কুম্বলের মাঝে আরেকটি মজার মিল—দুজনের নামের আদ্যক্ষরই ‘AK’। কুম্বলে ছিলেন ‘Anil Kumble’, আর আনশুল কম্বোজ হচ্ছেন ‘Anshul Kamboj’।
অনিল কুম্বলে পরিণত হয়েছিলেন ভারতীয় স্পিন ইতিহাসের অন্যতম নাম। তার বিখ্যাত জার্সি নম্বর ৩৭ আজও স্মরণীয়। কম্বোজ পরেছেন ৪৭ নম্বর জার্সি, যে নম্বরও হয়তো ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে এক পরিচিত সিম্বল।
এই মিল আনশুলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেও বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই অনিল কুম্বলের বোলিং ও দৃঢ়তা তার অনুপ্রেরণা।
একই মাঠে টেস্ট অভিষেক: ম্যানচেস্টার
সবচেয়ে চমকপ্রদ মিল—দুজনের টেস্ট অভিষেক একই মাঠে, ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে।
১৯৯০ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে কুম্বলে এই মাঠেই খেলেছিলেন তার প্রথম টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচে তিনি ৩টি উইকেট পান, যার মধ্যে ছিলেন মাইক অ্যাথারটন, অ্যালান ল্যাম্ব ও অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার।
৩৫ বছর পর একই মাঠে ভারতের হয়ে টেস্ট জার্সি পরে মাঠে নামলেন আনশুল কম্বোজ। আকাশ ঢাকা আকাশের নিচে কঠিন কন্ডিশনে ব্যাটিং শুরু করল ভারত। তবে কম্বোজের নজর এখন বোলিংয়ে নিজের জায়গা পাকা করার দিকে।
এই মাঠেই কুম্বলে একদিন ঘূর্ণির জাদুতে বদলে দিয়েছিলেন ম্যাচ। এখন দেখার বিষয়, আনশুল তার পেসের ঝড়ে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।
অভিষেক ম্যাচ মানেই চাপে ভরা মুহূর্ত। কিন্তু ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার সুযোগও এখানেই তৈরি হয়। আনশুল কম্বোজ এখন সেই সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে, আর তার পেছনে আছে ‘AK’ নামের একটি গর্বিত উত্তরাধিকার।