ট্র্যাভিস হেড ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের দারুণ সেঞ্চুরিতে অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান গড়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
সিরিজে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ৫১৮ রান নিয়ে। স্টিভেন স্মিথ অপরাজিত আছেন ১২৯ রানে। তার সঙ্গে বোউ ওয়েবস্টার ৪২ রানে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবেন।
মাত্র ১০৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ট্র্যাভিস হেড। চলতি সিরিজে এটি ছিল তার তৃতীয় শতক। অন্যদিকে অধিনায়ক স্মিথ অ্যাশেজে নিজের ৪১তম ম্যাচে তুলে নেন ১৩তম সেঞ্চুরি।
তবে অবসরের আগে শেষ টেস্ট খেলতে নামা উসমান খাজা হতাশ করেছেন দর্শকদের। মঙ্গলবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার পর তিনি মাত্র ১৭ রান করে ফুলটস বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান।
এই সিরিজে সিডনি উইকেটকেই সবচেয়ে ব্যাটিং-বান্ধব হিসেবে ধরা হচ্ছে। তার ওপর প্রচণ্ড রোদের কারণে ইংল্যান্ডের বোলারদের জন্য দিনটি ছিল বেশ কষ্টের। সিরিজে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ইংলিশ পেসার ম্যাথিউ পটস সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন। ২৫ ওভারে তিনি দিয়েছেন ১৪১ রান।
আগের দিন ৯১ রানে অপরাজিত থাকা হেড পুরোনো বল কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। আর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা মাইকেল নেসার আউট হওয়ার আগে ৯০ বলে ২৪ রান করে ইংল্যান্ড বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেন।
কভার দিয়ে মারা একটি চারে নিজের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হেড। পরে একবার জীবন পাওয়ার পর জ্যাকব বেথেলের অফস্পিনে সুইপ করতে গিয়ে ১৬৩ রানে আউট হন তিনি। চতুর্থ উইকেটে স্মিথের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৫৪ রানের।
খাজা ও অ্যালেক্স ক্যারি দ্রুত আউট হলেও স্মিথ নিজের ছন্দ ধরে রাখেন। সপ্তম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে যোগ করেন ৭১ রান। ৩৭ রানে স্কয়ার লেগে বেন ডাকেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন গ্রিন। কিছুক্ষণ পর দৌড়ে তিন রান নিয়ে নিজের ৩৭তম টেস্ট শতক পূর্ণ করেন স্মিথ।
৩৬ বছর বয়সী স্মিথ ইতোমধ্যে অ্যাশেজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ইংল্যান্ডের জ্যাক হবসকে ছাড়িয়ে গেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার মোট রান এখন ৩,৬৮৩। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান, যার রান ৫,০২৮।
