দুই পক্ষের মধ্যকার তীব্র সংকট শেষে আলোচনার টেবিলেই মিলেছে সমাধান। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে একাধিক দফা 'হেলদি ডিসকাশন' বা সুস্থ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুক্রবার থেকেই আবারও শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৬।

বিসিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ম্যাচগুলো নতুন সূচি অনুযায়ী শুক্রবারই খেলা হবে। এর ফলে টুর্নামেন্টের পুরো সূচিতেই কিছু রদবদল আনা হয়েছে। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে বৃহস্পতিবারের ম্যাচগুলো মাঠে গড়ায়নি। এই সমঝোতার পরই নতুন সূচি প্রকাশ করেছে বিসিবি।

'ক্রিকেটের স্বার্থেই ফিরলাম মাঠে'

বৃহস্পতিবার রাতে বিসিবির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সাংবাদিকদের জানান, "ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় আমরা মাঠে ফিরছি।" তিনি বলেন, "নাজমুল ইসলামের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোয়াব তা সমর্থন করে না। তবে বোর্ডের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানো গেছে।"

মিঠুন আরও বলেন, "বোর্ড আমাদের দাবিগুলো দ্রুত প্রক্রিয়া করে দেখানোর আশ্বাস দিয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শুক্রবার থেকে খেলায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।"

কী ছিল সংকটের শুরু?

বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে না গেলে ক্রিকেটাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা, এমন একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে কোয়াব বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে। পদত্যাগ না আসায় ক্রিকেটাররা বিপিএল বয়কট শুরু করে। পরে বিসিবি জরুরি সভায় নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়, তবে পরিচালক পদে বহাল রাখে।

বিসিবির অবস্থান কি?

বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চেষ্টা করেও আপাতত নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে তাকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, "ক্রিকেটারদের কারণেই আইসিসি টাকা দিচ্ছে, স্পনসর পাচ্ছি, ক্রিকেট চলছে। ক্রিকেটার ছাড়া আমরা কিছুই নই।" তিনি নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত' বলে উল্লেখ করেন।

কোয়াবের অন্যান্য দাবি

দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব বয়কটের পেছনে আরও চারটি কারণ তুলে ধরে। এগুলো হলো: ঢাকার ক্রিকেটের চলমান সংকট, নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়। বিসিবি এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ক্ষমা চাওয়ার দাবি রয়ে গেছে

কোয়াব তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, নাজমুল ইসলামের মন্তব্য ছিল অপমানজনক এবং তার উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। যদিও এই মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি, তবে কোয়াব পরিচালক পদ নিয়ে বিসিবির গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সময় দেওয়ার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, "সব ধরনের খেলা বন্ধ থাকলে জাতীয় দল, বিপিএলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।"

 

news