ক্রিকেট বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান মানেই যেন এক টুকরো মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যের পর্দার আড়ালের নাটক যে কতটা জমজমাট হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এক সময় গুঞ্জন উঠেছিল, বাংলাদেশের অনুরোধেই ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এখন এসব গুঞ্জনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে নতুন এক তথ্য দিয়েছেন।

ম্যাচ বয়কট নিয়ে যখন শোরগোল চলছে, তখন লাহোরে আইসিসির বৈঠকে ডাকা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেও। এরপরই গুঞ্জন ওড়ে যে, বুলবুলের বিশেষ অনুরোধেই পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সবাই ভেবেছিলেন, বাংলাদেশের হস্তক্ষেপেই শান্তির পায়রা উড়েছে দুবাইয়ের পরিবর্তে দুশমনদের মোকাবিলার মাঠে।

কিন্তু ঘটনা কি সত্যিই তাই?

মহসিন নাকভি নিজেই এবার মুখ খুলেছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান মহারণ দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়কে। আর সেখানেই খোলসা করেন পিসিবি বস।

পরদিন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসেন নাকভি। সেখানেই তিনি জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল দিসানায়েকেরই।

নাকভি বলেন, "প্রথমেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে আপনাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাতে চাই। তারা বিশেষ করে বলেছেন, যেন আমার মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা আপনার কাছে পৌঁছে দেয়।"

এরপরই তিনি চমকপ্রত তথ্য দেন, "১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে আপনিই ছিলেন প্রকৃত নায়ক। শুধু আপনার কারণেই দুই শত কোটি মানুষ আজ আনন্দিত। আপনার অনুরোধেই আমরা ম্যাচটি খেলতে রাজি হয়েছি।"

নাকভির এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ নয়, বরং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের অনুরোধই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এই ইস্যুতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম শোনা গেলেও পর্দার আড়ালের আসল গল্পটা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন।

ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট লড়াই যেমনই হোক, মাঠের বাইরের এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানেই যেন সব রহস্য লুকিয়ে থাকে। আর এবার সেই রহস্যের সমাধান করে দিলেন মহসিন নাকভি নিজেই!

 

news