যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবার ফুটবলের হাত ধরে ফিরতে পারে নতুন স্বপ্ন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় একটি ঝকঝকে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা।

দুই বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধে গাজার অবকাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট—সবখানেই সংকট। খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্গঠন নিয়েও রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ বৈঠকে ঘোষণা

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ‘বোর্ড অফ পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় গাজা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে নয়টি সরকার গাজা ত্রাণ প্যাকেজের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আরও পাঁচটি দেশ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে সৈন্য পাঠানোর কথা জানায়।

এই সভাতেই ফিফা প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino গাজার জন্য বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা দেন।

কী কী নির্মাণ করবে ফিফা?

ফিফা জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি নতুন জাতীয় স্টেডিয়াম নির্মাণে তারা ৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে (প্রায় ৬১২ কোটি টাকা)।

এছাড়া—

১৫ মিলিয়ন ডলারে একটি ফিফা একাডেমি

৫০টি ‘অ্যারেনা মিনি পিচ’ তৈরিতে ২.৫ মিলিয়ন ডলার

প্রতিটি ১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠ

সব মিলিয়ে গাজায় ফুটবল অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।

“শুধু ভবন নয়, আশা-আবেগও পুনর্গঠন জরুরি”

ইনফান্তিনো বলেন,
“আমাদের শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা রাস্তা পুনর্নির্মাণ করলেই হবে না। আমাদের মানুষ, আবেগ, আশা এবং বিশ্বাসকেও পুনর্গঠন করতে হবে। আর সেটাই ফুটবলের মূল কথা।”

তিনি আরও বলেন, “ফুটবল বিশ্বের সর্বজনীন ভাষা। এটি আশা, আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক।”

গাজার নিজস্ব দল নেই

গাজার নিজস্ব কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই। গাজা ও পশ্চিম তীরের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সম্মিলিত ফিলিস্তিনি দল ১৯৯৮ সাল থেকে FIFA কর্তৃক স্বীকৃত। তবে তারা এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।

বিশ্বকাপের আগে ঘনিষ্ঠতা

এ বছরের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে। বিশ্বকাপের আগে ইনফান্তিনোকে প্রায়ই হোয়াইট হাউসে দেখা গেছে। ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নজর কাড়ে।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গাজা যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় ‘বোর্ড অফ পিস’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলে সেখানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তার বক্তব্যে বারবার ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করেন। বোর্ডের সদস্যদের সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “কার্যত প্রত্যেকেই একটি দেশের প্রধান।” আর ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ করে বলেন, “ফুটবলের প্রধান—খারাপ কিছু নয়। আমার মনে হয় আপনার চাকরিটাই সবচেয়ে ভালো!”

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফুটবলের এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা সময়ই বলবে। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝে এই ঘোষণাকে অনেকে আশার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন।

 

news