ইউরোপিয়ান ফুটবলে নতুন ঝড়। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র-কে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ উঠতেই তদন্তে নেমেছে উয়েফা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ফুটবলারকে অন্তত ১০ ম্যাচের জন্য ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
ম্যাচ জয়ের পরই শুরু বিতর্ক
ঘটনাটি ঘটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের প্রথম লেগে। মঙ্গলবার বেনফিকার মাঠে ১-০ গোলে জেতে রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করেন ভিনিসিউস। আর তার কিছু পরই শুরু হয় উত্তেজনা।
ভিনিসিউস সরাসরি রেফারির কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন, তিনি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। মাঠ ছেড়ে যান রিয়ালের খেলোয়াড়রা। প্রায় ১১ মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ।
অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?
ভিনিসিউস ও তার সতীর্থদের অভিযোগ, বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তাকে উদ্দেশ করে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ দিয়ে জার্সি ঢেকে কিছু একটা বলছেন প্রেস্তিয়ান্নি। সেই কথাই ভিনিসিউস শুনেছেন বলে দাবি।
ম্যাচের পর রিয়ালের আরেক তারকা কিলিয়ান এমবাপে অভিযোগ করেন, জার্সিতে মুখ ঢেকে ভিনিসিউসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলা হয়েছে।
উয়েফার তদন্ত শুরু
উয়েফা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে একজন নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রেস্তিয়ান্নি ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে অন্তত ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।
বছরের পর বছর স্পেনের বিভিন্ন মাঠে বর্ণবাদের শিকার হওয়া ভিনিসিউস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “বর্ণবাদীরা সর্বোপরি কাপুরুষ।”
বেনফিকার পাল্টা দাবি
এদিকে বেনফিকা প্রেস্তিয়ান্নির পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবটি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, “একসঙ্গে তোমার পাশে।”
লিসবনের এই ক্লাবটি পরে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা প্রেস্তিয়ান্নির থেকে বেশ দূরে ছিলেন—তাই তার কথা শোনার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রেস্তিয়ান্নিও সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেননি। তার দাবি, কথা ভুল শুনেছেন ভিনিসিউস। উল্টো রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলারদের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
“আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ভিনি জুনিয়রকে কখনোই বর্ণবাদী অপমানসূচক কিছু বলিনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে যা শুনেছে, তা ভুল বুঝেছে,”—লিখেছেন প্রেস্তিয়ান্নি।
সব মিলিয়ে, ইউরোপিয়ান ফুটবলে ফের বর্ণবাদ বিতর্ক। এখন নজর উয়েফার তদন্তে—প্রমাণ মিলবে, নাকি অভিযোগই থেকে যাবে?
