বিদেশে খেলতে গিয়ে এমন অপমানের মুখে পড়তে হবে—ভাবেননি কেউই। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে হোটেলের বিল না মেটানোয় বাসন মাজতে হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়দের! ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় ক্রীড়াজগৎ।

লাহোরে ফিরেই বিস্ফোরক অভিযোগ অধিনায়কের

অস্ট্রেলিয়া সফরে চারটি ম্যাচ হেরে বুধবার সকালে লাহোরে ফেরে পাকিস্তান দল। বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অধিনায়ক শাকিল ইমাদ ভাট। তাঁর অভিযোগ, শুধু থাকার সমস্যাই নয়—ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের হোটেলের বাসন পর্যন্ত ধুতে হয়েছে।

তিনি সরাসরি আঙুল তোলেন Pakistan Hockey Federation-এর (পিএইচএফ) দিকে। ইমাদের কথায়, “পাকিস্তান হকি ফেডারেশন মিথ্যা বলছে। যথেষ্ট হয়েছে। আমরা এই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কাজ করতে পারি না। খেলোয়াড়দের যদি ম্যাচের আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হয়, বাসন মাজতে হয়—তাহলে পারফরম্যান্স কীভাবে আশা করবেন?”

সিডনিতে ১২-১৫ ঘণ্টা রাস্তায়!

পাকিস্তান দল এফআইএইচ হকি প্রো লিগের দ্বিতীয় পর্ব খেলতে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল। কিন্তু সিডনিতে পৌঁছেই বিপাকে পড়ে দল। জানা গেছে, হোটেলের টাকা পরিশোধ না করায় বুকিং বাতিল হয়ে যায়। ফলে খেলোয়াড়দের লাগেজ নিয়ে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা অপেরা স্ট্রিটের কাছে অসহায়ের মতো ঘুরতে হয়।

ইমাদ জানান, “কেউ আমাদের দায়িত্ব নেয়নি। সময়মতো খাবারও দেওয়া হয়নি। হোটেল ছিল না, থাকার ব্যবস্থা ছিল না।”

বাসন মাজা থেকে ঘর পরিষ্কার—সবই খেলোয়াড়দের

অবশেষে স্থানীয় একটি জায়গায় থাকার ব্যবস্থা হলেও সমস্যার শেষ হয়নি। খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রাতঃরাশ তৈরি করতে হয়েছে, দুই-তিন ঘণ্টা ধরে বাসন মাজতে হয়েছে, এমনকি শোবার ঘর ও বাথরুমও পরিষ্কার করতে হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও মেলেনি।

ইমাদের ভাষায়, “ছেলেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে দেশের হয়ে ভালো খেলব?”

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানে যে খবর পৌঁছেছে, সবই সত্য। আমরা যে ভিডিও পাঠিয়েছিলাম, তা-ও সত্যি। কিন্তু দেশের সম্মান ভেবে পরে বলতে হয়েছিল সব ঠিক আছে। বাস্তবে তা নয়।”

ক্যানবেরায় ফোর স্টার হোটেলেও জট

সূত্রের খবর, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ক্যানবেরা-তে একটি ফোর স্টার হোটেল বুক করা হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, সব বিল মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে জানা যায়, তাঁদের নামে কোনও ঘরই বুক হয়নি!

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পাকিস্তানি বাসিন্দারাই এগিয়ে এসে সাহায্য করেন। পরে কোনওভাবে হোটেলের ব্যবস্থা হলেও ঘর কম থাকায় দুই-তিনজন খেলোয়াড়কে একটি ঘরে থাকতে হয়। পরদিন সেখান থেকেই সরাসরি মাঠে নামতে হয় দলকে। অনেকের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই ক্লান্তির ছাপ পড়েছে।

তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের

ঘটনা ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ডের (পিএসবি) ডিরেক্টর নূর উস সাবাহ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, শরিফ পিএইচএফের পৃষ্ঠপোষকও।

সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়া সফর পাকিস্তান হকির জন্য শুধু মাঠের পরাজয় নয়—সম্মানহানির এক বড় অধ্যায় হয়ে রইল। এখন দেখার, তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।

 

news