ডালাসে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করেছে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছিল অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে, যখন মিকেল মেরিনো ফারান টোরেসের নিখুঁত পাস গ্রহণ করে ডিয়োগো কোস্তার বাইরে থেকে সহজ গোলে পরিণত করেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে।
এই ম্যাচে রোনালদো জানতেন এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হবে। লম্বা সময় ধরে পর্তুগাল স্পেনের সাথে সমানতালে খেললেও শেষ মুহূর্তের একটি ভুল স্পেনের পক্ষে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। স্পেনের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল, বিশেষ করে মিকেল ওয়ারজাবালের সুযোগ নষ্ট এবং আলেক্স বায়েনার দূর থেকে শট স্পেনের আক্রমণের দৃশ্যমান ছিল।
পর্তুগালের সেরা সুযোগ ছিল নুনো মেন্ডেসের কর্ণার থেকে শক্তিশালী শট যা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগাল খেলোয়াড়দের মধ্যে একাধিক পরিবর্তন হয়, বিশেষ করে মেন্ডেসের ইনজুরির কারণে কোচ রবার্তো মার্টিনেজকে দল সাজাতে হয়। রাফায়েল লেও ও ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও মাঠে নামেন, ব্রুনো ফের্নান্দেসের একটি শক্তিশালী শট সাইড নেটে লেগে যায়।
স্পেনের ইয়ামাল ও রুবেন দিয়াস পর্তুগালের আক্রমণ প্রতিহত করেন। রোনালদো শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান, ফ্রি-কিক অর্জন এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে লড়াই করেন, তবে গোল করতে পারেননি। এটি তার এই টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক চতুর্থ নকআউট ম্যাচ যেখানে তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন।
অতিরিক্ত সময়ে মেরিনোর গোল স্পেনের জয় নিশ্চিত করে এবং পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। স্পেনের কোচ লুইস এনরিকের মতে, "আমাদের খেলোয়াড়রা কঠিন সময়ে শান্ত থাকায় এই জয় সম্ভব হয়েছে। মেরিনোর গোল আমাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় আশা দেয়।" পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বলেন, "আমরা লড়াই করেছি, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সুযোগটি কাজে লাগাতে পারিনি।
রোনালদোর অবদান অসাধারণ ছিল।" এবার স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে এবং পরবর্তী প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও রোনালদোর ক্যারিয়ার ফুটবলে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।