পিভি সিন্ধু জাপানের মেট্রোপলিটান জিমন্যাসিয়ামে অনুষ্ঠিত জাপান ওপেন ২০২৬ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে শীর্ষস্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী আকানে ইয়ামাগুচিকে সরাসরি সেটে পরাজিত করে সাত বছর পর বড় শিরোপা জিতেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টস (RevSportz) জানিয়েছে, দুইবারের অলিম্পিক মেডেলজয়ী এই ভারতীয় শাটলার ৫০ মিনিটের খেলায় ২১-১৭, ২১-১৭ ব্যবধানে জাপানের তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আকানেকে হারিয়ে সুপার ৭৫০ স্তরের প্রথম সিঙ্গলস শিরোপা অর্জন করেছেন।
৩১ বছর বয়সী সিন্ধুর এই জয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সায়েদ মোদি ইন্টারন্যাশনাল জেতার পর তার প্রথম শিরোপা এবং ২০২২ সালের পর প্রথমবার বিদেশে সুপার ৫০০ বা তার ওপরে স্তরের টুর্নামেন্ট জয়ের মাইলফলক। ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর এটি তার সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিন্ধু ২০২৬ সালে সুপার ৫০০ বা উচ্চতর স্তরের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতা প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড় হিসাবেও ইতিহাস গড়েছেন। একই সঙ্গে ৩১ বছর বয়সে তিনি তাই তজু ইয়িংকে ছাড়িয়ে সুপার ৭৫০ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বয়স্ক বিজয়ী হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুতেই বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১০ নম্বর সিন্ধু ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৩ নম্বর আকানে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং প্রথম গেমের মধ্যভাগে ১১-১০ এগিয়ে যায়। তবে সিন্ধু তার আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে ১৬-১২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম গেমটি ২১-১৭ ব্যবধানে জিতে নেয়।
দ্বিতীয় গেমে সিন্ধু আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে পাঁচ পয়েন্টের সিঙ্গেল স্ট্রেক নিয়ে ৮-৩ এগিয়ে যান। যদিও আকানে কিছুটা ফিরে আসেন, এরপরও সিন্ধু মাঝপথে ১১-৭ এগিয়ে থেকে র্যালি নিয়ন্ত্রণ করেন। শেষ মুহূর্তে আকানে ১৭-১৫ করতে পারলেও সিন্ধু ধৈর্য ধরে খেলে ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেন।
এই ফাইনাল ছিল তাদের ৩০তম সাক্ষাৎ, যেখানে সিন্ধুর মাথাপিছু লিড এখন ১৬-১৪। চার বছর পর আকানোর বিরুদ্ধে সিন্ধুর প্রথম পূর্ণাঙ্গ জয় এই ম্যাচটি ছিল। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে সিন্ধু ১৮ থেকে উঠে ৮ নম্বরে এসে তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সিন্ধুর সাত বছরের শিরোপার অপেক্ষার অবসান, যা তার পুনরুত্থানের প্রতীক।
- সুপার ৫০০ বা তার ওপরে স্তরের টুর্নামেন্টে প্রথম ভারতীয় বিজয়ী হওয়া।
- ৩১ বছর বয়সে সুপার ৭৫০ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বয়স্ক চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
- আকানে ইয়ামাগুচির মতো বিশ্বসেরা প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে মানসিক দৃঢ়তা প্রদর্শন।
- বিশ্ব র্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি, যা ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টের জন্য আশা বাড়ায়।