যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এখন উচ্চ প্রভাবশালী অ্যাকাউন্টের পোস্টের তাত্ক্ষণিক ডেটা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করবে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (TMTG), যা ট্রুথ সোশ্যালের কর্পোরেট প্যারেন্ট কোম্পানি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই নতুন সেবা বিনিয়োগকারীদের বাজারে প্রভাব ফেলতে সক্ষম পোস্টগুলো দ্রুত পেতে দেবে।
TMTG-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং ফার্মগুলোকে মিলিসেকেন্ডের মধ্যে শীর্ষ ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্টের মেশিন-রিডেবল ডেটা সরবরাহ করবে। ২০২২ সাল থেকে পোস্টের আর্কাইভসহ এই সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন চলবে এবং আগস্ট ১ থেকে চালু হবে। তবে মূল্য নির্ধারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পের TMTG কোম্পানি ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠা পায়, যখন বিভিন্ন বড় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম তার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নীতি ঘোষণা করেছেন যা বাজারে উল্লেখযোগ্য ধাক্কা দিয়েছে; যেমন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ৯০ দিনের জন্য বেশ কিছু শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দেন, যা ওয়াল স্ট্রিটে তীব্র উত্থান ঘটায়।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রেসিডেন্টের সরকারি পদ থেকে ব্যক্তিগত লাভের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। ট্রাম্পের পরিবার TMTG নিয়ন্ত্রণ করে এবং তিনি কোম্পানির বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞ ক্যাথলিন ক্লার্ক বলেছেন, "এটি সরকারী ক্ষমতা ব্যবহার করে স্বার্থবৃদ্ধির এক নতুন, অগ্রহণযোগ্য ধারা।"
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংঘর্ষ আইন অনুসারে নির্বাহী শাখার কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ থাকলেও প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এই আইনের বাইরে। এর ফলে ট্রাম্প তার বিনিয়োগগুলো ধরে রেখেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তার আয় দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ঘোষণার আগে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ থেকে ব্যাপক লাভের অভিযোগ উঠেছে। মার্চে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পর্কে ঘোষণার কয়েক মিনিট আগে অর্ধ বিলিয়ন ডলারের তেল লেনদেন হয়। একইভাবে, কোম্পে সি লেটার নামের মার্কেট প্ল্যাটফর্মও বড় ধরনের তেল বিনিয়োগের খবর দেয় যা প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার লাভ করেছে।
সিএনএন সম্প্রতি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের আগে তার স্টক লেনদেনের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে অন্তত ২১টি কোম্পানির সাথে সম্পর্কিত ৪৪টি লেনদেন হয়েছে, যেগুলো পোস্টের বিষয়বস্তু বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছে। তবে ট্রাম্পের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কোনোভাবে বিনিয়োগের দিকনির্দেশ দেয় না।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ট্রাম্পের এই উদ্যোগ মার্কিন রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রের মধ্যে স্বার্থসংঘর্ষের নতুন মাত্রা সৃষ্টি করছে। প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাসরি অর্থনৈতিক তথ্য বিক্রি করার মাধ্যমে বাজারে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বাড়ছে। এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক নৈতিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া, বিনিয়োগকারীদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিয়ে বাজারের অস্থিরতা ও প্রতারণার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করছে।