রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি তুলেছেন।

এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, "এই নির্বাচন স্থগিত করার মাধ্যমে এডহক কমিটি প্রমাণ করেছে তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যশীল। নতুন বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিবাদের এই আগ্রাসন আমরা মেনে নেব না।" তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করা হয়, তাহলে সারা দেশ থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লংমার্চ করতে বাধ্য হবে।

এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "রুয়া (রাবি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী এটি নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেছে। এখন যখন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তখনই তারা নাটকীয়ভাবে নির্বাচন বানচাল করেছে।"

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করলে সারা দেশ থেকে ১২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য পদত্যাগ করেন এবং নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

পেট্রো বাংলার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান পুলক বলেন, "ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা ভেবেছিলাম রুয়ায় গণতন্ত্র ফিরে আসবে। কিন্তু নব্য ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।"

রাবি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ.কে.এম কামরুজ্জামান কোরবান সতর্ক করে বলেন, "যারা পরাজিত হয়েছে, তারা এখন নতুন মুখ নিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা তাদের任何 ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।"

আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, "১৯৭৪ সালে রুয়া প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এটি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এখন নতুন করে আরেকটি গোষ্ঠী একই কাজ করতে চাইছে।"

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেছেন:

  1. অবিলম্বে বর্তমান এডহক কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে

  2. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে

  3. ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে

  4. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে

ড. হেলাল উদ্দিন সতর্ক করে বলেন, "যদি ৭ দিনের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা সারা দেশ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লংমার্চ করব। ভিসির দপ্তর ও বাসভবন ঘেরাও করা হবে।"

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পোস্ট দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে এত বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

#রাবি_অ্যালামনাই_নির্বাচন #নির্বাচন_স্থগিত #প্রাক্তন_শিক্ষার্থী_আন্দোলন #রাবি_রুয়া #গণতন্ত্র_রক্ষা

Walton Ads