মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রাইভেট কার-মাইক্রোসহ সকল হালকা যানবাহন চালকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্রসহ শ্রম আইন স্বীকৃত অধিকারসমুহ প্রাইভেটকার চালকদের জন্য নিশ্চিত করা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভিত্তিতে হালকা যানবাহন চালকদের রেশনসহ কল্যাণ সুবিধাসমুহ নিশ্চিত করা এবং প্রাইভেটকার-হালকা যানবাহন চালকদের আইনানুগ পাওনা আদায়সহ পরিবহন শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন বাস্তবায়নে শ্রম দপ্তরের কার্যকর ভুমিকা পালনের দাবিতে ‘ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, ট্যাক্সি কার, অটোটেম্পু, অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং: ঢাক-২২৮০)’ আজ ২৬ আগষ্ট ২০২২, সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী পালন করে। ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বিরেশ চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, সহ-সম্পাদক আলমগির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, দপ্তর সম্পাদক রুবেল মিয়া, অর্থ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, আজিজুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃরা বলেন, ঢাকা শহরে ৫ লক্ষাধিক হালকাযানবাহন চালক তাদের রক্ত পানি করে ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকাপালন করে। দেশের রাজধানিতে অবস্থান করেও এই শ্রমজীবী মানুষরা দৈনিক নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা, সাপ্তাহিক-বাৎসরিক-অর্জিত ছুটি, চাকরির নিরাপত্তা কিংবা ক্ষতিপুরণসহ শ্রম আইন স্বীকৃত সকল শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত। ধনাঢ্য মালিকের অন্যায় থেকে দরিদ্র প্রাইভেটকার চালককে রক্ষার জন্য রাষ্ট্র দায়িত্ব নেইনা। অভাবের সুযোগ নিয়ে একজন প্রাইভেটকার চালককে নামমাত্র বেতনের বিনিময়ে কোনো রকম ছুটি ছাড়া দৈনিক ১৪/১৬ ঘন্টা কাজ করার অমানবিক শর্তে চাকরিতে নেই মালিকরা। আর দিনের কাজ শেষে পরের দিন কাজে যোগ দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকেনা, কৃতকাজের মজুরি পাবে কিনা তার নিশ্চয়তা থাকেনা, চাকরি অবসানে প্রাপ্য  সুবিধা আদায় করার জন্য রাষ্ট্র কোনো দায়িত্ব নেইনা। অর্থাৎ রাষ্ট্র অলিখিতভাবে প্রাইভেটকার চালকদের আধুনিক দাস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে মনে হয়। 

নেতৃরা প্রশ্ন রাখেন, ভদ্রলোকের মুখোসধারি প্রতারক মালিকেরা যখন শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে, পুলিশের তত্বাবধানে সালিশের সিদ্ধান্তও অমান্য করে এবং তারপরেও সে শাস্তি পায়না চালকের পাওনা আদায় করে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা দায়িত্ব নেইনা তখন গাড়িচালকরা রাষ্ট্রের আইন মানবে কেন? নেতৃরা অবিলম্বে প্রাইভেটকার চালকসহ যেসব শ্রমজীবীদের নিয়োগপত্র প্রদানকরা হয়না তাদের আইনানুগ পাওনা আদায়সহ শ্রম অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নির্দিষ্ট করার দাবি জানান। বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং প্রশাসনিক ক্ষমতাবান আত্মিয়দের নাম ব্যবহার করে পাওনিয়র ডেনিমের উপমহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেনের মত যারা শ্রমিকের মজুরি আত্মসাৎ প্রচেষ্টা করছে, আইন অমান্য করছে, প্রশাসন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে সেই মালিকরুপি প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে শ্রমিকের পাওনা আদায়ের দাবি জানান।    

নেতৃরা বলেন, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অগ্নিমূল্যেও বাজারে দরকষাকষিতে দুর্বলপক্ষ হালকাযান চালকরা নামমাত্র মজুরি চাকরি করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চালকের মানসিক চাপমুক্ত জীবন সড়কে শৃঙ্খলার অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রাইভেটকার চালকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রম আইন স্বীকৃত সকল শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনায় সঞ্চিত ক্ষোভ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করে। সেই পরিস্থিতি নিশ্চয় কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। 

নেতৃরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন শ্রম আইন বা সড়ক পরিবহন আইনে থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র গাড়িচালকদের নিয়োগপত্র আদায় করে দিতে পারেনা আবার নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র না থাকার অজুহাতে রাষ্ট্রিয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে। এই দ্বিচারিতা বন্ধ করে রাষ্ট্রিয় যেকোনো ব্যবস্থাপনায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভিত্তিতে সুরক্ষা দেওয়া এবং পেশাদার লাইসেন্সের সাথে ডোপ টেস্টেরমত হয়রানিমুলক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। news