‘কৃষ্ণকলি’খ্যাত টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন টলিউড অভিনেতা ও বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। এই সম্পর্ক ঘিরে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক, যা শেষ পর্যন্ত মামলা পর্যন্ত গড়ায়। সব সমালোচনা ও বিতর্ক উপেক্ষা করেই ৫৪ বছর বয়সে শ্রীময়ীকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন কাঞ্চন। এবার সেই সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন শ্রীময়ী।

এক সাক্ষাৎকারে শ্রীময়ী চট্টরাজ জানান, কাঞ্চনের দ্বিতীয় সংসার ভাঙার জন্য তার মাও প্রথমদিকে তাকেই দায়ী করেছিলেন। তিনি বলেন, “বাবা-মাকে রাজি করানো খুব কঠিন ছিল। শুরুতে মা একদমই মানতে চাননি। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার, মা যা খবরের কাগজে দেখেছে, সেটাই বিশ্বাস করেছে। মা আমাকে সরাসরি বলেছিল, ‘তুমি অন্যের সংসার ভাঙলে। একটা বাচ্চা আছে, একবারও ভাবলে না?’”

শ্রীময়ীর কথায়, তার মা কাঞ্চনকেও ছাড়েননি। অভিনেত্রী বলেন, “মা কাঞ্চনকে বলেছিল, ‘তুমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, ও না হয় ভুল করল, তুমি কেন দুটো থাপ্পড় মারলে না?’ এমনকি আমাকে বলেছিল, ‘এটা যদি তোর সঙ্গে হতো, ভগবান তোকে কোনোদিন ক্ষমা করত না।’ তখন আমি চুপ করে থাকতাম। কারণ তারা যা দেখছে, তাই বিশ্বাস করছে। আমরা তখন প্ল্যাকার্ড হাতে ঘুরলেও কেউ বিশ্বাস করত না যে আমরা কিছু করিনি।”

কাঞ্চনের চেয়ে বয়সে ২৬ বছরের ছোট শ্রীময়ী। বয়সের এই বড় ব্যবধান এবং তৃতীয় বিয়ে—সব মিলিয়ে পরিবারের আপত্তি ছিল প্রবল। শ্রীময়ী বলেন, “বাড়ির লোক বলেছিল, এত বড় বয়সের একজন মানুষকে বিয়ে করবি, তাও আবার তৃতীয় স্ত্রী হতে? ফলে পরিবারের কাছে কাঞ্চনকে প্রমাণ করাটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

বিয়ের পরও সমালোচনা থামেনি। তখন কাঞ্চনই তাকে ধৈর্য ধরতে বলতেন। শ্রীময়ী জানান, “আমি খুব ইমপেশেন্ট মানুষ ছিলাম। তখন ও আমাকে বলত, ‘টাইম ইজ দ্য বেস্ট কিলার, টাইম ইজ দ্য বেস্ট হিলার।’ কাউকে জবাব দেওয়ার দরকার নেই। সময়ই সব ঠিক করে দেবে। সত্যিই সময় আমাকে অনেকটা বদলে দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, টিভি অভিনেত্রী পিংকি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন কাঞ্চন মল্লিক। ২০২১ সালে পিংকি অভিযোগ তোলেন, শ্রীময়ীর সঙ্গে কাঞ্চনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এরপর থেকেই কাঞ্চন-পিংকির দাম্পত্য সম্পর্কে চূড়ান্ত তিক্ততা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর একই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজ।

 

news