শান্তিরক্ষী প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে মালির বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি

মালির বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর জোট এ হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছে, এতে শান্তি চুক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

মালির উত্তরাঞ্চলের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর জোট গত বুধবার বলেছে, মালি থেকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনের প্রত্যাহার হবে, শান্তি চুক্তির প্রতি এক মারাত্মক আঘাত। এতে গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় হুমকি সৃষ্টি হতে পারে।

মালির সামরিক সরকার গত শুক্রবার মিনুসমা নামে পরিচিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীকে ‘অবিলম্বে’ চলে যেতে বলে। বামাকোর সামরিক নেতৃবৃন্দ ও জাতিসংঘের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা তিক্ত সম্পর্কের পর সরকার দেশটি থেকে শান্তিরক্ষা বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।

গত মে মাসে কয়েক হাজার লোক মালির রাজধানী বামাকোতে সমবেত হয়ে মুনিসমা (ইউনাইটেড নেশন্স মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন, মালি) সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। এর কারণ, তাদের মতে, এ বাহিনী তাদের দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্থায়ী কৌশলগত কাঠামো (পার্মান্যান্ট স্ট্রাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর পিস, সিকিউরিটি এন্ড ডেভলপমেন্ট) সম্পর্কিত জোট সিএসপি-পিএসডি এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া মিনুসমার প্রত্যাহার হবে মালি ও গোটা অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মালি সরকারের মুখপাত্র কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। 

মিনুসমা মালি ছেড়ে যাবে কিনা বা কখন যাবে তা স্পষ্ট নয়। পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে ২০১৩ সাল থেকে শান্তি রক্ষা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গ্রুপগুলো সেসময় দেশটির উত্তর মধ্যাঞ্চলের বিশাল এলাকা দখল করে নেয়। এ সময় সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়।

 মিনুসমা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রাম করছে। তবে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শান্ত রাখার ব্যাপারেও ভূমিকা পালন করছে। ২০১৫ সালে আলজিয়ার্স চুক্তির পর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাদের হামলা বন্ধ রেখেছে।

তারপরও এ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে মালির সামরিক সরকারের সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সামরিক সরকার তাদের ক্ষমতা আরো সংহত করেছে।

গত ডিসেম্বরে সিএসডি-পিএসডি আলোচনা থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং বলে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় তৃতীয় কোন দেশে বৈঠক হলেই কেবল তারা তাতে পুণরায় যোগদান করবে। 

মিনুসমার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হবে। মালি সরকারের চলে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্তু তারা এর মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করছিল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৩০০০ শান্তিরক্ষা সেনা ও তাদের সরঞ্জাম সুশৃংঙ্খলভাবে সরিয়ে নিতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে।

মালির সরকার পশ্চিমাদের থেকে সরে এসে রাশিয়ার বেসরকারী সামরিক ঠিকাদারদের ওয়েগনার গ্রুপের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা ওয়েগনারের কাছে সহায়তা চেয়েছে। দেশটিতে যদি বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব জোরদার হয় তাহলে মালি আবারো গভীর সংকটে পড়তে পারে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news