চীনের পাল্টা এশিয়া-ইউরোপের নতুন করিডরের অর্থায়ন করবে কারা?

 দিল্লিতে সদ্যসমাপ্ত জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকেই ভারত থেকে আরব হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি মেগা অর্থনৈতিক করিডরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরিভাবে এই করিডরের অংশ নয়, তার পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই প্রকল্পটি ঘোষণার সময় এটিকে ‘আ বিগ ডিল’ (একটা বিশাল ব্যাপার) বলে বর্ণনা করেছেন। পরে প্রকল্পটির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও।

আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই করিডর পুরো বিশ্বের কানেক্টিভিটি ও ‘টেঁকসই উন্নয়নে’র ক্ষেত্রে একটি নতুন দিশা দেখাবে।

দিল্লিতে এই প্রকল্পটির রূপরেখা ঘোষণার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ আরও বহু বিশ্বনেতা উপস্থিত ছিলেন।

‘ইন্ডিয়া - মিডল ইস্ট - ইউরোপ ইকোনমিক করিডর’ বা আইএমইসি নামে পরিচিত এই করিডরটি ভারতের পশ্চিম উপকূল (আরব সাগর) থেকে শুরু হয়ে প্রথমে সমুদ্রপথে আমিরাতের উপকূলে গিয়ে ভিড়বে।

দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর থেকে করিডরটি এরপর রেলপথে আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডন হয়ে ইসরায়েলের হাইফা বন্দর পর্যন্ত যাবে।

তৃতীয় বা শেষ ধাপে এই করিডরটি হাইফা থেকে ভূমধ্যসাগরের বুক চিরে গ্রীস, ইতালি বা ফ্রান্সের বন্দরগুলোতে গিয়ে ভিড়বে  অর্থাৎ পুরো করিডরটি দক্ষিণ এশিয়া থেকে সরাসরি পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত একটি নতুন বাণিজ্যিক রুট খুলে দেবে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, এই করিডরে সৌদি আরব থেকে (জর্ডন হয়ে) ইসরায়েলের মধ্যে রেল সংযোগের কথাও বলা হয়েছে, যদিও দুটি দেশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

অথচ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পকে ‘যুগান্তকারী’ বলে ঘোষণা করেছেন। আর সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস তো নিজেই করিডরটির ঘোষণার সময় দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন।

ফলে ‘আইএমইসি’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বে এই করিডরটির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কে বা কারা অর্থায়ন করবে, সেই বিষয়ে এখনও খুব একটা স্পষ্টতা নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আইএমইসি-কে মূলত একটি ‘রেল ও শিপিং করিডর’ হিসেবে দেখা হলেও এই রুট বরাবর ইলেকট্রিসিটি কেবল, একটি হাইড্রোজেন পাইপলাইন ও হাই-স্পিড ডেটা কেবলও বসানো হবে।

অন্তত এই করিডর নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের প্রস্তুত করা একটি ডকুমেন্ট সেরকমই জানাচ্ছে।

পুরো করিডরটি জুড়ে ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের কথা জানানো হলেও কোন দেশ, জোট কিংবা বিশ্ব ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অর্থলগ্নি করবে কি না, সেটা এখনও কিছু স্পষ্ট করা হয়নি।

করিডরের যে অংশটা প্রায় নতুন করে করতে হবে সেটা হল আমিরাত-সৌদি-জর্ডান-ইজরায়েলের মধ্যে রেল সংযোগের কাজ।

 হাইফা বন্দর থেকে ইউরোপ পর্যন্ত অংশটা আবার সমুদ্রপথে (ভূমধ্যসাগর) যাবে, সেখানেও বেশির ভাগ অবকাঠামো আগে থেকেই তৈরি আছে।

এছাড়া এই রেল-শিপিং করিডর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সাতটি দেশের জোট জি-সেভেনের ‘পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্টের’ও (পিজিআইআই) অংশ ফলে সামগ্রিকভাবে এর পেছনে জি-সেভেনের সমর্থন থাকবে বলেও ধরে নেওয়া হচ্ছে।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোডের পাল্টা জবাব হিসেবেই জি-সেভেন পিজিআইআই তৈরি করেছিল বলে মনে করা হয়।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news