গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা: রক্ত ঝরছে অভুক্ত ফিলি্িস্তনি শিশুদের, নিরব বিশ্ব

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে শনিবার রাতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হযেছেন ৫১ জন যাদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। এরআগে গাজার আল-ফাখুরা স্কুলের শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। স্কুলটিতে গাজাবাসী আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্বরোচিত এই হামলায় যারা বেঁচে গেছেন, তারা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। 

ওই হামলায় আহত মেয়েকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে এসেছেন এক মা। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি তখন বাচ্চাদের ডিম খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলাম। তারা অনেক দিন ধরে অভুক্ত। অনেক কষ্ট করে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলো। এতে আমার মেয়ে আহত হয়েছে।’

আরেক নারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষের এক কোণায় বসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে গোলাবর্ষণের পরে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। অগত্যা জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে এসে আশ্রয় নেই। ভেবেছিলাম স্কুলটি অন্তত নিরাপদ হবে। কিন্তু এখন দেখছি কোনো জায়গাই আর নিরাপদ নয়। স্কুলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই নারী বলেন, ‘এখানে খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ কিছুই নেই। আমাদের সন্তানেরা না খেয়ে থাকছে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে এখানে-সেখানে ছুটে বেড়াচ্ছি। আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এভাবে আমাদের অভুক্ত শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে তারা। যারা বেঁচে আছে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আমাদের অভুক্ত শিশুদের রক্ত ঝরছে। আর গোটা বিশ্ব সেটি চেয়ে চেয়ে দেখছে।’

খাবার-পানি-ওষুধ ও নিরাপত্তাহীন গাজা উপত্যাকার শিশুদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন মা-বাবা। গাজায় ইসরায়েল যে বর্বর নির্বিচার হামলা চালিয়ে যে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে চলেছে তাকে অনেকেই গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।

সালমা রাদি ছয়দিন আগে সন্তান প্রসব করেন। নির্বিচার অবিরাম ইসরায়েলি হামলার মুখে তিনি ও তার স্বামী সন্তান নিয়ে গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চলে এসে আশ্রয় নিয়েছেন এক ছোট এপার্টমেন্টে । এ ছোট বাসাটিতে আরও আরও আশ্রয় নিয়েছেন ৪৩ জন বাস্তচ্যুত মানুষ। আসার দিনেই ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সেখানে অবিলম্বে বোমা হামলা হবে বলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। রাদি বলেন, গাজার কোথায় যাব? যাওয়ার কোন জায়গা নেই। সর্বত্র ইসরায়েলি হামলা চলছে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news