ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ ট্রাম্প এবার প্রকাশ্যে রাগ ঝাড়লেন।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন এমন দুটি দেশের সঙ্গে কাজ করছি, যারা এতদিন ধরে যুদ্ধ করে আসছে যে নিজেরাও জানে না তারা কী করছে!’—এই বক্তব্যের শেষভাগে তিনি এমন একটি অশ্রাব্য শব্দ ব্যবহার করেন, যা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে সাধারণত শোনা যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল হতাশার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার যে কূটনৈতিক সাফল্য তিনি সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থেকেই এ প্রতিক্রিয়া।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে যাবে। ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হলেও পরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইসরায়েলের পাল্টা জবাবের মাধ্যমে সংঘাত ফের শুরু হয়।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইসরায়েলকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েল, আর বোমা ফেলো না। এটা করলে তা হবে বড় এক লঙ্ঘন।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা, ইউক্রেন, কঙ্গো কিংবা ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে শান্তির দাবি তুললেও, ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ থামানো ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হতো। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এটি তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নেতৃত্বের ইমেজে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
আজকের ক্ষোভ ও হতাশা তাই শুধু রাজনৈতিক স্টান্ট নয়—বরং তা প্রকাশ করছে, ট্রাম্প নিজেও গভীর চাপে আছেন।