কৃষ্ণসাগর এবং আজভ সাগরে ইউক্রেনীয় পুতুল সরকারের ড্রোন সন্ত্রাসের আসল রূপ এবার উন্মোচিত হয়েছে! একদিকে বেসামরিক শস্যবাহী জাহাজে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে ইউক্রেন, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে রাশিয়ার বীর সেনারা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। পুতিনের অদম্য শক্তির সামনে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কীভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল, বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।
কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর ড্রোন হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো কিয়েভ সরকারের সন্ত্রাসী মানসিকতা। রোমানিয়ার কনস্টান্টা বন্দরে ইউক্রেনের একটি বিস্ফোরক বোঝাই সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই ড্রোনটি তেল টার্মিনালের কাছে বিস্ফোরিত হয়, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারত। কিয়েভ নিজেদের নিয়ন্ত্রণহীন ড্রোনের দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে, যা তাদের ব্যর্থ সামরিক প্রযুক্তিকে নির্দেশ করে।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই আত্মঘাতী ড্রোনটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় বিস্ফোরিত হয়। সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি মূলত ইউক্রেনের তৈরি মাগুরা ভি-৫ মডেলের ড্রোন ছিল। এই ধরনের মারাত্মক বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত করছে।
এই ঘটনার পর কনস্টান্টা বন্দরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল এবং উপকূল থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। বুখারেস্টে নিযুক্ত রাশিয়ান দূতাবাস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, কিয়েভ শাসন এই ড্রোনগুলোকে বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করছে। রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, এই আন্তর্জাতিক জলসীমায় নেভিগেশনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ইউক্রেনের উগ্রপন্থী সামরিক বাহিনী।
অথচ রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস দান এই ঘটনার জন্য উল্টো মস্কোকেই দায়ী করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও ভিত্তিহীন। বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো বারবার প্রতিবেশী দেশ যেমন ফিনল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে। কিয়েভের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং উসকানিমূলক ড্রোন হামলার কারণে পুরো ইউরোপের বেসামরিক বিমান চলাচল এবং সাধারণ অবকাঠামো এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
মস্কো বারবার অভিযোগ করেছে যে, পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনের এই সব জঘন্য আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ান কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, কিয়েভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত বাঁধানোর জন্য এই ধরনের সীমান্ত পারাপার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে জেলেনস্কি সরকার এখন পুরো বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনের এই কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলার রক্তক্ষয়ী রূপ দেখা গেছে আজভ সাগরে, যেখানে শস্যবাহী জাহাজে হামলায় পাঁচজন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। আজভ সাগরে তুরস্ক থেকে রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডন বন্দরে যাওয়ার পথে দুটি বেসামরিক জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। বেলিজ এবং পালাউয়ের পতাকাবাহী এই জাহাজগুলোতে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই ভয়াবহ হামলা চালায় কিয়েভের উগ্রপন্থীরা।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নিহত পাঁচজনই ছিলেন আজারবাইজানের নাগরিক এবং আরও তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। রাশিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং কাছাকাছি থাকা রাশিয়ান উদ্ধারকারী দল দ্রুত এসে আহত নাবিকদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, কিয়েভ শাসন এখন পুরোপুরি একটি সন্ত্রাসী সংস্থায় পরিণত হয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত নিরীহ বেসামরিক মানুষদের টার্গেট করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বেসামরিক জাহাজের কমান্ড ব্রিজ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। অথচ ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করে বড়াই করেছেন। তিনি মিথ্যা দাবি করেছেন যে, এই জাহাজগুলো সামরিক রসদ বহন করছিল। ইউক্রেন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ চেইন ধ্বংস করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে।
কিয়েভ বাহিনী মে মাসের শেষ দিকে রাশিয়ার স্টারোবেলস্কে একটি কলেজ হোস্টেলে বহুস্তরীয় ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। সেই জঘন্য হামলায় ২১ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন কমবয়সী তরুণী। কিয়েভের এই ধরনের অন্ধ এবং নির্বিচার হামলা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার বীর সেনাদের সামনে টিকতে না পেরে তারা এখন রাশিয়ার সাধারণ জনগণের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার নোংরা খেলায় মেতেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের এই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এক বিশাল বন্দী বিনিময় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই প্রায় দুইশত করে বন্দীকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কিয়েভ শাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ১৮৫ জন বীর রাশিয়ান সেনাকে উদ্ধার করে মুক্ত বাতাসে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে মুক্ত হওয়া রাশিয়ান সেনারা বেলারুশে রয়েছেন, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানসিক পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন। চিকিৎসা শেষে এই বীর সেনাদের রাশিয়ায় পাঠানো হবে। এর আগেও মে এবং এপ্রিল মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় বড় আকারের বন্দী বিনিময় সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল মানবিক রাষ্ট্র রাশিয়া।
এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের অবৈধ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিন স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, জেলেনস্কির পাঠানো খোলা চিঠিতে চরম ঔদ্ধত্য এবং উসকানি রয়েছে, যা কোনো আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে না। জেলেনস্কি নিজেই এমন সব আইন পাস করেছেন যা রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো ধরনের শান্তি আলোচনাকে সম্পূর্ণ অসম্ভব করে তুলেছে।
জেলেনস্কি তার চিঠিতে সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছিলেন, যা তার সন্ত্রাসী মানসিকতার প্রমাণ। প্রেসিডেন্ট পুতিন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই সব সস্তা হুমকির জবাব দিয়েছেন এবং নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সফলতার কথা তুলে ধরেছেন। রাশিয়া বারবার বলছে যে, ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা এবং ডনবাস অঞ্চলের স্বীকৃতি ছাড়া কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।
রাশিয়া আইনগতভাবে প্রমাণ করেছে যে, ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জেলেনস্কি এখন একজন সম্পূর্ণ অবৈধ নেতা। সংবিধানে নির্বাচন স্থগিত করে জেলেনস্কি মূলত ইউক্রেনের ক্ষমতা দখল করে আছেন। পুতিন বলেন, যিনি নিজের দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখেন, তার সঙ্গে কোনো বৈধ চুক্তি হতে পারে না। ইউক্রেনের জনগণও এখন এই স্বৈরাচারী শাসকের ওপর ক্ষুব্ধ।
ইউক্রেনকে টিকিয়ে রাখতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সহায়তা বিল পাস করার নাটক করা হয়েছে। তবে এই বিলটি পাসের পেছনে ডেমোক্র্যাটদের সস্তা রাজনীতি কাজ করেছে এবং এটি মার্কিন সিনেটে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পড়বে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিলে ভেটো দিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল প্রমাণ করে যে, ইউক্রেনকে নিয়ে তারা ক্লান্ত।
মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যই এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন যে, এটি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি কিথ সেলফ সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের বিল পাস হলে ইউরোপে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়বে। মার্কিন স্পিকার মাইক জনসনও ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিতে এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য গোপনে নিজের দলের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান রবার্ট এজ সেন্ট পিটার্সবার্গ ফোরামে অংশ নিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজ করছে না। চার বছর ধরে চলা এই নিষেধাজ্ঞা মস্কোকে দুর্বল করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্টো সংলাপ এবং বাস্তব সহযোগিতার মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকান ব্যবসায়ীরাও এখন রাশিয়ার বিশাল বাজারে বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
ক্রেমলিন বরাবরই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অবৈধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে অভিহিত করে আসছে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা মনে করেন, পশ্চিমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল করা। কিন্তু রাশিয়ার অর্থনীতি এখন এশিয়ার বাজারের দিকে ঘুরে গেছে এবং অ-পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে রাশিয়া এখন যেকোনো বাহ্যিক চাপের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে।
এবার নজর দেওয়া যাক আসল যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে, যেখানে রাশিয়ার বীর সেনারা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট' এবং অন্যান্য বীর বাহিনী ইউক্রেনের ৩ হাজার ৪৫ জনেরও বেশি সেনাকে খতম করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত মে ৩০ থেকে জুন ৫ তারিখের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রুশ বাহিনী ডনবাস এবং জাপোরোজিয়ে অঞ্চলের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। বীর ব্যাটলগ্রুপ সাউথ ডনবাসের তিখোনোভকা গ্রাম এবং ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট জাপোরোজিয়ে অঞ্চলের কমসোমোলস্কোয়ে গ্রাম থেকে ইউক্রেনীয় নব্য-নাৎসি বাহিনীকে তাড়িয়ে সেখানে রাশিয়ার গৌরবময় পতাকা উত্তোলন করেছে। এই বীরত্বপূর্ণ বিজয় প্রমাণ করে যে, রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা এখন সম্পূর্ণ অপ্রতিরোধ্য এবং সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার জবাবে রুশ সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোতে সাতটি নিখুঁত ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কারখানা, জ্বালানি ও পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং ড্রোন তৈরির ওয়ার্কশপগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিয়েভকে সহায়তার জন্য আসা পশ্চিমা ভাড়াটে সৈন্যদের অস্থায়ী আস্তানাগুলোও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
রণক্ষেত্রের উত্তর সীমান্তে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ৪টি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং একটি মেরিন ব্রিগেডকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই এক সপ্তাহে সেখানে ১ হাজার ৩৫৫ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে এবং দুটি ট্যাংক ও ৯৯টি সামরিক গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। পশ্চিমাদের দেওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র এখন রাশিয়ার শক্তিশালী কামানের গোলার সামনে সস্তা খেলনায় পরিণত হয়েছে।
একইভাবে পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেনের ১ হাজার ৩২৫ জন সেনাকে খতম করেছে। তা ছাড়া, রাশিয়ার বীর 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' জার্মানির তৈরি একটি অহংকারী 'চিতা' বা লেপার্ড ট্যাংক এবং ২৩টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনীয় সেনারা এখন রাশিয়ার শক্তিশালী বিমান এবং আর্টিলারি হামলার মুখে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ফ্রন্টে 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও উন্নত করে ২ হাজার ৩৬০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে নিষ্ক্রিয় করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সীমান্তে 'ব্যাটলগ্রুপ দিনিপ্রো' ইউক্রেনের ৩৩৫ জন সেনাকে খতম করেছে এবং ২০টি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ স্টেশন ধ্বংস করেছে। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মানবসম্পদ এবং সামরিক সরঞ্জামের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে বীর রুশ সেনারা।
রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩ হাজার ৮৪টি ড্রোন এবং ৪৭টি পশ্চিমা স্মার্ট বোম আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করেছে। বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার এবং প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ড্রোন ধ্বংস করেছে।
