রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পরেই বড়সড় প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে আমেরিকার ই-কমার্স জায়ান্টদের মধ্যে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ভারত থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করছে অ্যামাজন। একই পথে হাঁটার কথা ভাবছে ওয়ালমার্ট, টার্গেট এবং গ্যাপ-এর মতো মার্কিন খুচরো সংস্থাগুলিও।

বিশেষ করে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ভারতের বস্ত্র রপ্তানির উপর। কারণ এই খাতে শুল্কহার বাড়িয়ে ৬০ শতাংশের বেশি করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বহু ই-কমার্স কোম্পানি ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারত থেকে পোশাক আমদানি স্থগিত রাখবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্সিকিউটিভ অর্ডার সই করে জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে ভারত এখনো তেল আমদানি করছে—এই ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর বসানো হচ্ছে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ দিনের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

নতুন শুল্কের ফলে ভারতীয় পণ্যের দাম মার্কিন বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে ক্রেতাদের আগ্রহ কমবে, এবং বিক্রি হ্রাস পাবে—এই আশঙ্কাতেই অর্ডার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আমেরিকান কোম্পানিগুলো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত বেশি শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করলে লাভ তো দূরের কথা, উলটে ক্ষতিই হতে পারে।

একই সঙ্গে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ভারত থেকে আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যা ভারতের রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা কমে গেলে তা দেশের সার্বিক রপ্তানি বাজারকেই ধাক্কা দেবে।

তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা আমেরিকার কোনও সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য আসেনি। তবু বেসরকারিভাবে প্রস্তুত ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা বলছেন, এমন চলতে থাকলে বহু ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়বে।

Walton Ads