একাধিক দেশের সংঘর্ষবিরতি করিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর সেই তালিকায় নতুন দুই দেশ—আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। শুক্রবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকে শান্তি ফেরানোর পথে হাঁটছেন ট্রাম্প।

সোশাল মিডিয়ায় নিজের এই কৃতিত্ব নিয়ে খোলাখুলি আনন্দ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান বহু বছর ধরে যুদ্ধে লিপ্ত, হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অনেক দেশ চেষ্টা করলেও কেউ সফল হয়নি, অবশেষে আমরা সফল হয়েছি। এই জন্য ‘ট্রাম্প’কে ধন্যবাদ।”

তিনি আরও বলেছেন, “আমেরিকা এই দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করবে, যাতে তাদের অর্থনীতি উন্নতি পায় এবং দক্ষিণ ককেশাসে আমাদের প্রভাব বাড়ে। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতারা তাদের দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আমি তাদের গর্বিত।”

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান প্রায় তিন দশক ধরে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২০ সালে আবার যুদ্ধ জোরালো হয়, যেখানে প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হন। ২০২২ সালে সাময়িক কয়েকদিনের লড়াইয়ে আরও কয়েক ডজন প্রাণহানি হয়। এর মধ্যেই বিশ্ব শক্তিগুলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স—বিভিন্ন সময় শান্তির চেষ্টা চালিয়েও সাফল্য পায়নি।

তবে এইবার ট্রাম্পই সেই শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে এগিয়ে এসেছেন। যদিও বৈঠক এখনও হয়নি, তবু সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব নিজের ঝুলিতে ঢুকিয়েছেন তিনি। এর আগেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান, কঙ্গো-রুয়ান্ডা, ইরান-ইজরায়েলসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ থামানোর পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।

ভারত অবশ্য ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করেছে। হামাস-ইজরায়েল ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টাও অনেকটা অকেজো প্রমাণিত হয়েছে। তবে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও অনেক দেশই তাঁকে পুরস্কারের দাবিতে মুখর হয়েছে।

Walton Ads