মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার এক বড় চমক দিলেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যদি কোনো সেমিকন্ডাক্টর বা কম্পিউটার চিপ আমেরিকায় উৎপাদিত না হয়, তাহলে সেগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে! তবে যারা আমেরিকায় বিনিয়োগ করছে, তাদের জন্য এই শুল্ক থাকবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

ওভাল অফিসে অ্যাপলের সিইও টিম কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার রাতে ট্রাম্প বলেন, “আমরা চিপ এবং সেমিকন্ডাক্টরের ওপর প্রায় ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। কিন্তু যদি সেটা আমেরিকায় তৈরি হয়, তাহলে শুল্ক থেকে মুক্তি থাকবে।”

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে অ্যাপল কর্ণধার কুক নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমেরিকায় ৬০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবেন—যা প্রায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা!

এই নতুন শুল্ক কার্যকর হলে, ডিজিটাল প্রসেসর-নির্ভর বৈদ্যুতিন যন্ত্র, গাড়ি, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে অগ্রণী দুই দেশ, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া, ইতোমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তাইওয়ানের ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’-এর প্রধান লিউ শিন-চিং জানিয়েছেন, বিশ্বের বৃহত্তম চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি আমেরিকায় বিনিয়োগ করায় তাদের অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য দূত ইয়ো হান-কুরও জানিয়েছেন, গত জানুয়ারিতে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো ছাড়াও বিদেশনীতি নিয়ে নানা কথা বলেন ট্রাম্প। পূর্বসূরি জো বাইডেনের সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি অন্য দেশের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এছাড়াও ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান সংঘাত প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

Walton Ads