অ্যাপলের সিইও টিম কুকের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যে কোনো প্রযুক্তি সংস্থা যদি আমেরিকায় বিনিয়োগ করে, তাহলে কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টর চিপসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। কুকের কথা মানলে, অ্যাপল ফোন আর ঘড়ির জন্য ব্যবহৃত কাচ খুব শিগগিরই কেন্টাকি থেকে আসবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো বেশ চিন্তিত ছিল। কারণ, শুল্ক বাড়লে তাদের পণ্যের দাম বাড়বে এবং বাজারে চাহিদা কমতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের ‘বিনিয়োগ করলেই শুল্ক মাফ’ নীতির ফলে অ্যাপলসহ অনেক কোম্পানি বেশ স্বস্তিতে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে আসল জয় হলো টিম কুকের।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ট্রাম্প জানান, অ্যাপল আমেরিকায় আরও ১০ হাজার কোটি ডলার (প্রায় আট লাখ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করবে। এর পরই তিনি চিপ আমদানিতে শুল্ক মাফের ঘোষণা দেন। যদিও অ্যাপল এখনও ভারতে ও চীনে উৎপাদন বন্ধ করছে না, তবুও আমেরিকায় তাদের নতুন বিনিয়োগকে ‘বড় জয়’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প যখন ভারত ও চীন থেকে আমেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কথা বলছিলেন, তখন কুক তার বিরোধিতা করেছিলেন। কুক স্পষ্ট করছিলেন, আইফোন যদি ভারতে বা অন্য দেশে তৈরি হয়, তা আমেরিকায় বিক্রি করার জন্য চলবে না, আমেরিকাতেই তৈরি হতে হবে। এখন অ্যাপল আমেরিকায় বড় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে, আর ট্রাম্পও নরম হয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, বিনিয়োগ বাড়ালে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও কুক শুল্কছাড় পেয়েছিলেন।
অ্যাপল ছাড়াও আমেরিকার অনেক প্রযুক্তি সংস্থা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমেরিকায় কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপলের পক্ষে আইফোন, আইপ্যাডসহ পণ্য আমেরিকায় তৈরি করা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন। উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় তারা ভারতে ও চীনে উৎপাদন করে। তবু ১০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তারা প্রাধান্যের সংকেত দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে তারা ৫০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছিল। পাশাপাশি, কুক জানিয়েছেন, অ্যাপলের ফোন ও ঘড়ির কাচ খুব শিগগিরই কর্নিং কোম্পানি কেন্টাকিতে তৈরি করবে। কেন্টাকিতে ইতিমধ্যেই কিছু কাচ তৈরি হয়েছে। এই সব প্রতিশ্রুতিই ট্রাম্পের শুল্কমুক্তির পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আমেরিকায় চিপের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পেছনে রয়েছে দেশীয় চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর প্রভাব। সূত্রের খবর, বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের সাক্ষাৎ হয়। মে মাসে পশ্চিম এশিয়ায় ট্রাম্পের সফরসঙ্গীও ছিলেন হুয়াং, যার প্রশংসাও করেছিলেন প্রেসিডেন্ট। কুকের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বুধবার ট্রাম্প কুকের প্রশংসাও করেছেন। বিনিয়োগ ঘোষণার পর আমেরিকায় অ্যাপলের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুক শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা করেননি, বলেছেন, ১২টি প্রদেশের ২৪টি কারখানায় আমেরিকায় ১৯০০ কোটি ডলারের চিপ তৈরি করবে অ্যাপলের জন্য স্থানীয় সংস্থা। যদিও অনেকেই বলছেন, আগেও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অ্যাপল, কিন্তু সব পূরণ হয়নি। তাই এবারও কতটা সফল হবে, সে প্রশ্ন উঠছে।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে আমেরিকার চেম্বার অফ প্রোগ্রেসের সিইও অ্যাদাম কোভাসেভিক জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করাটা সংস্থাগুলো ভালোভাবেই শিখে গিয়েছে। তার কথায়, “কাজটা সবচেয়ে ভাল করেছে অ্যাপল আর এনভিডিয়া।”