আমেরিকার অ্যারিজোনায় ভয়াবহ ঝড়ের সঙ্গে উঠে আসে এক বিশাল ধূলিঝড় বা ‘হাবুব’, যা মুহূর্তেই অন্ধকারে ঢেকে দেয় ফিনিক্স শহরকে। এই ধূলিঝড়ে গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত অচল হয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন, বাতিল হয় একাধিক ফ্লাইটও।

সোমবার বিকেলে অ্যারিজোনা সিটির কাছে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধূলিঝড়টি। ৯ ও ১১ বছরের দুই সন্তানকে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে ফিরছিলেন বারনে বয়কিন হাইটসম্যান। হঠাৎ করেই ঝড় এসে তার গাড়িকে ঘিরে ফেলে। তিনি জানান,
“গাড়ির বাইরে হাত বের করলে নিজের হাতও দেখা যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল গাড়ি কেঁপে উঠছে, ধূলা আর হাওয়া যেন সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

১৫ মিনিটের মতো স্থায়ী এই ধূলিঝড়ে ভীষণ আতঙ্কে ছিলেন তিনি ও তার সন্তানরা।

এই ধরনের ধূলিঝড়কে বলা হয় হাবুব, যা সাধারণত শুষ্ক ও সমতল এলাকায় বজ্রঝড় বা আবহাওয়া ফ্রন্টের ধাক্কায় তৈরি হয়। ধূলিঝড় থামার পর আসে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া, যার কারণে ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং একটি টার্মিনালের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় ফাঁটল মেরামত ও পরিষ্কার কাজ চলছে।

প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন, যার বেশিরভাগই মারিকোপা কাউন্টিতে। গিলবার্ট এলাকার এক বাসিন্দা ও সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড ফিলি জানান, ঝড়ে তার বাড়ির ভেতরে সূক্ষ্ম ধূলা ঢুকে পড়ে। “পাখির খাবারের স্ট্যান্ড পড়ে গেছে, গাছগুলো হেলে পড়ছিল। তবে ছবিতে এসব ধূলিঝড় দেখতে সত্যিই অবিশ্বাস্য সুন্দর,” তিনি বলেন।

মার্ক ও’ম্যালি, ফিনিক্স ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ, জানান এ বছর বর্ষা মৌসুমে ফিনিক্সে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে বেশ ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটাই বর্ষার স্বভাব—কখনো বৃষ্টি হয়, কখনো হয় না।”

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ফিনিক্সে ৪০ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, এরপর আবার আবহাওয়া শুকনো হয়ে যাবে।

Walton Ads