ইরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান জানিয়েছেন, টানা এক সপ্তাহের বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা ও অস্থিরতার পর এখন দেশজুড়ে পূর্ণ শান্তি ফিরে এসেছে। তার ভাষায়, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অবস্থানই সন্ত্রাসবাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতাই সন্ত্রাসবাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।” গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বাইরে থেকে নতুন করে দাঙ্গার ডাক দেওয়া হলেও ইরানের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই রাতকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে শান্ত রাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। জেনারেল রাদান বলেন, সোমবার অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী বিশাল সমাবেশগুলোই ছিল এই সাফল্যের মূল শক্তি। হাজার হাজার মানুষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তেহরানের বিপ্লব চত্বরে জনসমাগম মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীকে নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক অস্থিরতার শুরু হয়েছিল মূলত মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে কিছু ব্যবসায়ীর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ থেকে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৮ জানুয়ারি থেকে এই আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেয় বিদেশি মদদপুষ্ট নাশকতামূলক গোষ্ঠীগুলো। তারা দোকানপাট, ব্যাংক, বাস স্টেশন ও মসজিদে হামলা চালায়। এতে সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদে বলেন, তাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—এই দাঙ্গা পরিচালনার জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েল সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন করেছিল। তার দাবি, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল, এমনকি হত্যার বিনিময়ে কত অর্থ দেওয়া হবে, সেটিও আগেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তারা ইতোমধ্যেই বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে।

 

news