ইরানে চলছে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তেহরানের সঙ্গে। ঠিক এই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আরও শক্তি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। তারা সেদেশের দিকে পাঠাচ্ছে একটি শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। ইতিমধ্যেই জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ ও এনবিসি নিউজের খবর অনুযায়ী, পেন্টাগন অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নামের এই আধুনিক বিমানবাহী জাহাজটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকেই এগোচ্ছে।
ইরানের চার প্রতিবেশী দেশ – কাতার, জর্ডান, ইরাক ও সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে এখন প্রায় তিন হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। পেন্টাগনের ধারণা, উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে এসব ঘাঁটিতে বা আমেরিকান স্বার্থে হামলা হতে পারে। সেজন্যই একদিকে বিমানবাহী জাহাজ পাঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে ওই সব ঘাঁটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা এখন দেশব্যাপী গণ-অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর-গ্রামই এই আন্দোলনের আওতায়। বিক্ষোভের তীব্রতায় দেশটির স্বাভাবিক জীবন এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত।
বিক্ষোভ সামলাতে ইরানি সরকার আগেই ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ কেটে দিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রেখেছে সারা দেশে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
