কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইনের মামলা সংক্রান্ত নতুন কিছু নথিতে প্রয়াত বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। ছবিতে তাকে বিকিনি পরিহিত দুই নারীর মাঝে একটি সান লাউঞ্জারে ককটেল হাতে দেখা গেছে। তবে হকিংয়ের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ।
‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি ২০০৬ সালের মার্চ মাসে সেন্ট থমাসের রিটজ-কার্লটন হোটেলে একটি বিজ্ঞান সেমিনারের সময় তোলা। হকিংয়ের পরিবারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ছবিতে হকিংয়ের দুই পাশে থাকা নারীরা আসলে তার দীর্ঘমেয়াদী পেশাদার সেবিকা। শারীরিক অক্ষমতার কারণে তার ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসার সহায়তার প্রয়োজন হতো এবং এজন্য তারাই তাকে দেখাশোনা করতেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-কে হকিংয়ের পরিবারের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘ছবিতে থাকা নারীরা যুক্তরাজ্য থেকে আসা হকিংয়ের দীর্ঘদিনের সেবিকা। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের ইঙ্গিত দেওয়া কেবল ভুলই নয়, বরং অত্যন্ত অবান্তর।’ তারা আরও মনে করিয়ে দেন যে, মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হকিং ভেন্টিলেটর, হুইলচেয়ার এবং ভয়েস সিন্থেসাইজারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, যা তার জন্য সার্বক্ষণিক সেবার আবশ্যকতা তৈরি করেছিল ।
এপস্টেইন ফাইল ও অভিযোগ
মার্কিন বিচার বিভাগের সংগ্রহ করা এপস্টেইন ফাইলে হকিংয়ের নাম অন্তত ২৫০ বার এসেছে । ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামক এক অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন যে, হকিং কোনো এক সময় ভার্জিন আইল্যান্ডে অনৈতিক কাজে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই দাবির কোনো প্রমাণ মেলেনি। এমনকি জেফরি এপস্টেইন নিজেও ২০১৫ সালে গিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে লেখা এক ইমেইলে এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ।
সেন্ট থমাস সফর ও প্রেক্ষাপট
২০০৬ সালে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগ দিতে যে ২১ জন বিজ্ঞানী সেন্ট থমাস এবং এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’ সফর করেছিলেন, হকিং ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। সে সময় তিনি কোয়ান্টাম কসমোলজির ওপর একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। অন্যান্য ছবিতে তাকে দ্বীপে ডিনার করতে এবং একটি বিশেষভাবে তৈরি সাবমেরিনে সমুদ্রের তলদেশ ভ্রমণ করতেও দেখা গেছে ।
২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা এই বিজ্ঞানীর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় এএলএস (ALS) এর সাথে লড়াই এবং পদার্থবিজ্ঞানে তার যুগান্তকারী অবদানকে ছোট করার যেকোনো প্রচেষ্টাকেই তার পরিবার ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
