ইউক্রেন যুদ্ধে ঘটে গেল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর ঘটনা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার সবচেয়ে মারাত্মক এবং বিধ্বংসী অস্ত্র 'ওরেসনিক' হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে সরাসরি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক মহাপ্রলয়ংকারী হামলা চালিয়েছেন। এই হামলা সাধারণ কোনো হামলা ছিল না, এটি ছিল লুগানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত ২১ জন নিরীহ শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুর এক জ্বলন্ত এবং ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এই ওরেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিয়েভের প্রধান সামোরিক কমান্ড সেন্টার, বিমান ঘাঁটি এবং বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কারখানাগুলো পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে। কিয়েভের সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, এমন ভয়ঙ্কর রাত তারা যুদ্ধের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আর কখনো দেখেননি। পুরো কিয়েভ শহর জুড়ে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া আর কান্নার আওয়াজ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।
এই প্রলয়ংকারী হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, রাশিয়ার এই আচরণ সম্পূর্ণ উন্মাদনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে অবিলম্বে এর তীব্র জবাব দাবি করেছেন এবং পুতিনের এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। জেলেনস্কির এই আর্তনাদ এখন পুরো বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান শিরোনামে পরিণত হয়েছে।
তবে এই ওরেসনিক হামলার পেছনে রয়েছে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং নির্মম অতীত কাহিনী, যা শুনলে যেকোনো মানুষের বুক কেঁপে উঠবে। গত শুক্রবার ইউক্রেনীয় বাহিনী লুগানস্ক পিপলস রিপাবলিকের স্টারোবেলস্ক নামক একটি কারিগরি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে একের পর এক আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে অতর্কিত এবং নৃশংস হামলা চালায়। সেই গভীর রাতে যখন ছাত্রীরা ঘুমাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড।
ইউক্রেনের সেই ড্রোন হামলায় ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২১ জন নিষ্পাপ স্কুলপড়ুয়া ছাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং ৪২ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়। রুশ কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত এবং চরম কাপুরুষোচিত 'সন্ত্রাসী কাজ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পুতিন এই নির্মম ঘটনার খবর শোনার সাথে সাথেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে ইউক্রেনকে একটি চরম শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রুশ মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা কড়া ভাষায় পশ্চিমা মিডিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো এই নিষ্পাপ শিশুদের নির্মম হত্যার আসল সত্য দেখতে ভয় পাচ্ছে। তারা এই বিশাল ট্র্যাজেডিকে সম্পূর্ণভাবে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যেন কিছুই হয়নি। লুগানস্কের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনবরত মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন যে, বিবিসি এবং সিএনএন-এর মতো বড় বড় পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোকে স্টারোবেলস্কের সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তারা ইউক্রেনের এই নিষ্ঠুর অপরাধের সত্যতা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করতে চায় না। এমনকি জাপান সরকার তাদের সাংবাদিকদের সেখানে যেতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
কিন্তু সত্যকে কি আর এভাবে চেপে রাখা যায়? রাশিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বের ১৯টি দেশের ৫০ জনেরও বেশি সাহসী স্বাধীন সাংবাদিক স্টারোবেলস্কের সেই ধ্বংসস্তূপে সরাসরি হাজির হন। তারা সেখানে গিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের গায়ে স্পষ্ট ইংরেজি এবং ইউক্রেনীয় ভাষায় লেখা বিভিন্ন কোড ও নির্দেশনা দেখতে পান। এটি প্রমাণ করে যে, এই হামলায় পশ্চিমা প্রযুক্তির সরাসরি ব্যবহার ছিল।
জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক এবং মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার এই ওরেসনিক হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের আকাশে যে আলোর রোশনাই দেখা গেছে, তার গতি এবং নিখুঁত আঘাতের ধরন অবিকল ওরেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রেরই বৈশিষ্ট্য। এই মিসাইলটি সেকেন্ডের মধ্যে তার লক্ষ্যবস্তুকে পুরোপুরি বাষ্পীভূত করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
স্কট রিটার আরও উল্লেখ করেছেন যে, ওরেসনিকের এই ছিটকে পড়া ৩৬টি সাব-মিউনিশন বা উপ-বোমা একসঙ্গে আঘাত হেনে কিয়েভের বাইরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামোরিক বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে লভিভের বিমান মেরামত কারখানায় এই ওরেসনিক ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে এই অত্যাধুনিক অস্ত্রের তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় সফল ব্যবহার।
রাশিয়ার এই হাইপারসনিক ওরেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতির কাছে বর্তমান বিশ্বের যেকোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং অসহায়। পুতিন নিজেই দাবি করেছেন যে, ওরেসনিক শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে চলে, যা ঘণ্টায় প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। কিয়েভের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এই মিসাইলটিকে রাডারে শনাক্ত করার আগেই তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে সবকিছু ধূলিসাৎ করে দেয়।
এদিকে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল ন্যাটো সামোরিক জোটকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি তাদের 'দাঁত দেখাতে' বা কঠোর শক্তি প্রদর্শন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো ইদানীং রাশিয়ার ওপর হামলা করার জন্য ন্যাটোর আকাশসীমা ব্যবহার করছে এবং রাশিয়া ইচ্ছা করেই ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে বিভিন্ন উস্কানিমূলক সামোরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
পাভেল আরও দাবি করেছেন যে, রাশিয়া ন্যাটোর শক্তির সীমানা পরীক্ষা করার জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করছে। তাই ন্যাটো জোটের উচিত রাশিয়ার যেকোনো চালকবিহীন বা চালকযুক্ত যুদ্ধবিমান ন্যাটোর সীমান্তের কাছাকাছি দেখামাত্রই তা সরাসরি গুলি করে ভূপাতিত করা। অন্যথায় পুতিনের সাহস দিন দিন আরও বেড়ে যাবে এবং তিনি পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট বড় হুমকি হয়ে উঠবেন।
চেক প্রেসিডেন্ট পুতিনকে থামাতে কিছু বিকল্প বা পরোক্ষ আগ্রাসী ব্যবস্থারও প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, মহাকাশে থাকা রুশ স্যাটেলাইটগুলোকে ধ্বংস করা এবং রাশিয়ার সমস্ত ব্যাংককে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থাগুলো সরাসরি মানুষ না মারলেও পুতিনের যুদ্ধ করার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।
তবে ইউরোপের সব দেশ কিন্তু চেক প্রেসিডেন্টের এই বিপজ্জনক যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সমর্থন করছে না। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো অত্যন্ত সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, ন্যাটোর সীমানা ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা চালানো একটি চরম আত্মঘাতী উস্কানি। এই ধরনের উস্কানির ফলে খুব দ্রুতই রাশিয়ার সাথে ন্যাটো জোটের সরাসরি এক ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে এই যুদ্ধের আঁচ এখন রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডেও এসে লেগেছে। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার খিনশটেইন জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোন লুগভ জেলায় একটি চলমান জ্বালানি বোঝাই মালবাহী ট্রেনের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ট্রেনের একটি বিশাল বগি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। রুশ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এছাড়াও ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী শহর এনারগোদারে অনবরত কামানের গোলা এবং ড্রোন বর্ষণ করে চলেছে। সম্প্রতি তাদের একটি গোলার আঘাতে দুটি যাত্রীবাহী বাস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পারমাণবিক কেন্দ্রের কর্মচারীরা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অনবরত এই হামলার কারণে চরম মানসিক ও শারীরিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যা যেকোনো সময় বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন যে, ওরেসনিক ছাড়াও রাশিয়া কিয়েভের ওপর প্রায় ৬০০টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং ৯০টি বিভিন্ন সংস্কৃতির ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে এই স্মরণকালের সবচেয়ে বড় আকাশ হামলাটি চালিয়েছে। কিয়েভের প্রতিটি কোণ থেকে মধ্যরাতে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পুরো শহরের বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এই হামলায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
কিয়েভের ঐতিহাসিক ও জাতীয় শিল্প জাদুঘরও এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শকওয়েভ বা কম্পনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাদুঘরের ভেতরের অনন্য স্থাপত্যের ছাদ ধসে পড়েছে, জানালার সমস্ত কাঁচ ভেঙে গুঁড়ো হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইউক্রেনের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেঝনা অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেছেন যে, রাশিয়া পদ্ধতিগতভাবে ইউক্রেনের জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য ধ্বংস করছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক ভবনটিও রাশিয়ার এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ধাক্কায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, আমরা কোনো সভ্য শক্তির সাথে লড়াই করছি না, আমরা লড়াই করছি একদল বর্বর ও আদিম হিংস্র বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাদের সভ্যতার প্রতি কোনো ন্যূনতম সম্মান নেই।
কিয়েভের দীর্ঘ ২২ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজার এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে কাজ করা সুভিতলানা নামক এক নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার সারাজীবনের উপার্জনের শেষ সম্বল এই দোকানটি আজ পুড়ে শেষ হয়ে গেল। কিয়েভে থাকার আর কোনো উপায় আমার নেই, সব হারিয়ে আমি আজ নিঃস্ব এবং সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছি।
কিয়েভের ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ইয়েভহেন জোসিন জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় তিনি এবং তার পোষা কুকুরটি ঘরের দেয়ালের সাথে ছিটকে পড়েন। তারা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তাদের সুন্দর অ্যাপার্টমেন্টটি চোখের পলকে ধুলোয় মিশে গেছে। এই প্রবীণ মানুষের আকুতি প্রমাণ করে যে, এই আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক ও সামোরিক লড়াইয়ের আসল মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ নিরপরাধ মানুষদের।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস রাশিয়ার এই ওরেসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারকে একটি 'রাজনৈতিক ভয়ের কৌশল' এবং পুতিনের চরম বিপজ্জনক 'নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেইল' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসবেন এবং রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেবেন।
কানের চলচ্চিত্র উৎসবে রানার্স-আপ হওয়া বিখ্যাত রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক আন্দ্রে জভিয়াগিনৎসেভ পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি এই যুদ্ধ বন্ধের আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের লাখ লাখ মানুষ এখন কেবল একটি জিনিসই স্বপ্ন দেখে, আর তা হলো এই রক্তক্ষয়ী মাংস কাটার কল বন্ধ হোক। পুরো বিশ্ব এখন পুতিনের একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চেয়ে আছে।
