মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান অবরোধের কারণে তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এতে আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় অনেক দেশ এখন বাধ্য হয়ে বিদেশি সহায়তার দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে হরমুজের বিকল্প রুট খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুরো অঞ্চল এখন চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ বা ‘পেট্রোলাইন’ পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। এই পাইপলাইনটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও গত মার্চে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো সম্ভব হয়েছে। যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তেলের পাশাপাশি সার ও কেরোসিন রপ্তানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা ট্রাক ও সড়কপথ ব্যবহার করে ওমান উপসাগরের বিভিন্ন বন্দরে এসব পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।

অন্যদিকে ইরাক কিছু তেল সিরিয়া হয়ে ট্রাকে পাঠানো শুরু করেছে। তবে ফুজাইরাহ বন্দরের পাইপলাইনও এখন আর পুরোপুরি নিরাপদ নয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই টার্মিনালে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। এমনকি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সম্প্রতি একটি মানচিত্র প্রকাশ করে ফুজাইরাহ এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন বলেও দাবি করেছে।

 

news