মাত্র কয়েকদিন আগেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এক রহস্যময় ও ভয়ংকর দৃশ্য দেখা গেছে। দূর আকাশে দ্রুতগতির আলোর ঝলকানি—যেন শব্দের চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে ছুটে যাচ্ছে অজানা কিছু বস্তু। মিসাইল, ড্রোন আর যুদ্ধবিমান—একসময় যা ছিল পশ্চিমা সামরিক শক্তির প্রতীক, এখন সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের দাবি তুলছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র—সেজ্জিল, খেইবার শেকান এবং খোররামশাহর। সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই তিনটিকে একসঙ্গে “ফ্যান্টাস্টিক থ্রি” নামেও অভিহিত করছেন।
তেল আবিবের আকাশে সাম্প্রতিক কিছু হামলার ঘটনার পর খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জানা যায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম এবং ভারী ওয়ারহেড বহন করতে পারে। এর বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একাধিক ছোট ক্লাস্টার অংশ ছড়িয়ে দিতে পারে, যা লক্ষ্যবস্তুর ওপর একসঙ্গে আঘাত হানে।
আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র খেইবার শেকান, যার নাম এসেছে ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধ থেকে। এটিকে তুলনামূলক নতুন প্রজন্মের অস্ত্র হিসেবে ধরা হয়। দ্রুত প্রস্তুত করা যায় এমন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৪৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
তৃতীয়টি হলো সেজ্জিল। এটি দুই ধাপের কঠিন জ্বালানি প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় আকাশে উজ্জ্বল আলোর ঝলক তৈরি হওয়ার কারণে এটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। এর উচ্চ গতির কারণে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের আগে প্রতিরক্ষার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায় বলে বিশ্লেষকদের মত।
