মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু দুই দেশের দ্বন্দ্ব নয়; বরং পুরো অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক বড় লড়াই।
এই সংঘাতকে অনেকেই “মধ্যপ্রাচ্যের স্নায়ুযুদ্ধ” বা “ছায়াযুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ ইরান ও সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবে সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে পরোক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে।
ইরান নিজেদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের “প্রতিরোধশক্তির কেন্দ্র” হিসেবে তুলে ধরতে চায়। অন্যদিকে সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি মুসলিম বিশ্বের প্রধান নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চায়। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনও এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় বিভক্তি এখানে একটি বাস্তব বিষয় হলেও এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। বিশেষ করে তেল, গ্যাস, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং কৌশলগত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিযোগিতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে রাশিয়া ও চীন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন অনেক ক্ষেত্রেই বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের প্রতি ইরানের সমর্থন এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান বহু বছর ধরে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। একইভাবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধেও দুই দেশ ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়েছে, যা সংঘাতকে আরও গভীর করেছে।
