নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমেরিকার বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে ইরানের আহ্বান


জাতিসংঘের সনদ সুরক্ষা বিষয়ক 'গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস'র স্টিয়ারিং কমিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বৈঠকে একতরফা নিষেধাজ্ঞার নীতি প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বের সব স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম সম্মেলনের অবকাশে 'গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস'র স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক অধিকার বিষয়ক সচিব রেজা নাজাফি জাতিসংঘের নিয়মনীতি রক্ষা, একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মাধ্যমে একের পর এক জাতিসংঘের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটায় এর জবাবে গতবছর ইরানসহ ১৯টি দেশকে নিয়ে গঠিত হয় জাতিসংঘের সনদ সুরক্ষা বিষয়ক 'গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস'র স্টিয়ারিং কমিটি। গতকাল অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এক বিবৃতিতে বৃহৎ দেশগুলোর পক্ষ থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলা হয় এ নিষেধাজ্ঞার ফলে বিভিন্ন দেশে দরিদ্রতা, ক্ষুধা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিবৃতিতে জাতিসংঘের নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলতে ও সনদের প্রতি সম্মান দেখাতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, মার্কিন নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে যা জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন। এ অবস্থায় জাতিসংঘের সনদ সুরক্ষা বিষয়ক 'গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস'র স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে সাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা যায়। এরপর ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য বিশ্বের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করা যায়।

মোটকথা, নিষেধাজ্ঞা পাশ্চাত্যের জন্য অনেক বড় অস্ত্র বা হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা একের পর এক বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েই চলেছে এবং চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের অবৈধ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এমনকি সম্প্রতি করোনাকালেও আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। জাতিসংঘ বহুবার এ ধরণের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে ব্যাপক সমালোচনা করেছে। নিষেধাজ্ঞার কুফল বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিবেদক অ্যালেনা দোহান বলেছেন, অন্যায় এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতিসংঘের মর্যাদা ও ক্ষমতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

এ অবস্থায় জাতিসংঘের সনদ সুরক্ষা বিষয়ক 'গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস'র স্টিয়ারিং কমিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

খবর পার্সটুডে /এনবিএস/২০২২/একে news