মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ড্রোন হামলার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে যেটি ন্যাটো সম্মেলনের আগ মুহূর্তে তীব্র আকার নিয়েছে। গত ৭ জুলাই রাতে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে মস্কো ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একযোগে ৪৩০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়, যা গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় হামলা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই রাতে ইউক্রেনের ড্রোনের ৯৫ শতাংশের বেশি লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার রাজধানী মস্কো।
মস্কোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন হামলা প্রতিহত করলেও ৩৬টি ড্রোন মস্কোর কাছে ধ্বংস করা হয়। ইউক্রেন নিয়মিতভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিরাতেই মস্কোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি পরিকাঠামো যেমন তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, রাশিয়া কিয়েভে ২ ও ৬ জুলাই ক্রুজ, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং দীর্ঘ-পরিসরের ড্রোন ব্যবহার করে ব্যাপক আক্রমণ চালায়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এই হামলাগুলোকে "সবচেয়ে বড় ধরনের" আক্রমণ বলে উল্লেখ করেন। রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের ড্রোন, যুদ্ধের গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সামগ্রী উৎপাদন কেন্দ্রে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। রাশিয়া এই হামলাগুলোকে প্রতিশোধমূলক বলে দাবি করছে, কারণ তারা বলছে, ইউক্রেন শুধু জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র নয়, সাধারণ রুশ নাগরিককেও লক্ষ্য করছে।
বিশেষ করে স্টারোবেলস্কের একটি কলেজ ডরমিটরিতে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনা রুশ হামলার তীব্রতা বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাশিয়ার লক্ষ্য কিয়েভের ড্রোন হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করে তার নিজস্ব নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার জন্য এই হামলাগুলো চালাচ্ছেন।
ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক এবং সামরিক সাহায্য প্রদান করছে, যা জেলেনস্কির পক্ষে প্রয়োজনীয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিগা ইতিমধ্যেই ন্যাটো থেকে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছেন। তবে রুশ সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া কিয়েভের ড্রোন ক্ষমতা নষ্ট করতে এবং সামরিক অগ্রগতি বজায় রাখতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করবে।
এই সংঘাতের পটভূমিতে, রাশিয়ার মাটির সেনারা পূর্বসীমায় ইউক্রেনের দুর্বল হওয়া সামরিক বাহিনীকে পরাস্ত করে গ্রাম ও শহর মুক্ত করতে থাকছে। এই যুদ্ধ চলমান, যেখানে দুই পক্ষের লক্ষ্য ও কৌশল একে অপরের থেকে ভিন্ন। কিন্তু যে ফলাফল দেখা যাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই সংঘর্ষের ময়দানে কে কতটা শক্তিশালী তা।