বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ফোকল্যান্ড দ্বীপের সার্বভৌমত্ব দাবি করে ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্রিটেনের আহ্বান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার ফুটবল দল বুধবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর দুই খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভানি লো সেলসো একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল "লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস" অর্থাৎ ফোকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।
এই দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এবং আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮২ সালে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধেও এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে ব্যাপক সংঘাত হয়েছিল, যা আর্জেন্টিনার পরাজয়ে শেষ হয়। আর্জেন্টিনা দাবি করে তারা ১৮১৬ সালে স্পেন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দ্বীপপুঞ্জের মালিক, যেখানে ব্রিটেন এটিকে একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে গণ্য করে।
ব্রিটিশ ব্যবসায়িক সচিব পিটার কাইল ফিফাকে অনুরোধ করেন এই ঘটনার যথাযথ তদন্তের জন্য এবং ব্যানারটিকে "সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক" ও নিয়মের কঠোর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি এমনকি এই খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। ডাউনিং স্ট্রিটও তদন্তের পক্ষে সাড়া দেয় এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, "বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফোকল্যান্ড দ্বীপ অবশ্যই আমাদের।" তিনি বলেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ফিফার বিষয়ে হলেও স্টারমার এই ঘটনার তদন্তের পক্ষে।
ফিফা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (IFAB) ম্যাচ চলাকালীন রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শনের অনুমতি দেয় না। নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে জরিমানা, স্থগিতাদেশ, পয়েন্ট কাটা বা নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। তবে ফিফা এখনো এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখযোগ্য, ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনা একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে জরিমানা গুণেছিল।
এবারের বিশ্বকাপেও রাজনৈতিক ইস্যুতে বিতর্ক কম হয়নি। গত মাসে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচ চলাকালীন প্রাচীন জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে, যা ফিফার নিষেধাজ্ঞার পরেও রাজনৈতিক বার্তার পরিচয় পায়। এছাড়া টিকিট মূল্য, রেফারি নিয়োগ এবং অন্যান্য বিষয়েও বিতর্ক চলেছে, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লবিংয়ের মাধ্যমে ফিফার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভিসা সমস্যার কারণে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান দলকে মেক্সিকোতে প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এই রাজনৈতিক বার্তা বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে ক্রীড়া ও রাজনীতি কখনোই আলাদা নয়, তা প্রমাণ করে। ব্রিটেনের কঠোর প্রতিক্রিয়া ও ফিফার শাসনব্যবস্থার কঠোরতা এই ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি, ফোকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মতো দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ ও জাতীয়তাবাদ ফুটবল মাঠেও প্রতিফলিত হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ক্রীড়া নীতি উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার সূচনা করতে পারে।