ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা সংকটের কারণে মার্কিন সমর্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ প্রকল্পে ভ্রমণ ও আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের খনিজ সরবরাহ চেইনে চিনের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগে বাধা দেখা দিয়েছে।
কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সরবরাহকারীদের, পরামর্শদাতাদের ও বিনিয়োগকারীদের কঙ্গো সফর পিছিয়ে গেছে, যার ফলে প্রকল্পের আলোচনা ও সম্প্রসারণ স্থগিত হয়েছে। জুন মাসে ওয়াশিংটনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আগ্রহ মূল্যায়নের এক বৈঠকও স্থগিত করা হয়, আর জুলাই মাসের একটি মূল্যায়ন বাতিল করা হয় যেহেতু মূল অংশগ্রহণকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসতে পারেননি।
কঙ্গো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোবাল্ট উৎপাদক এবং তামার দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ। এছাড়াও লিথিয়াম, ট্যান্টালাম ও জার্মেনিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ মজুদ রয়েছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহন, ইলেকট্রনিক্স, শক্তি অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অপরিহার্য। গত বছর থেকেই ওয়াশিংটন কঙ্গোর সাথে এই খনিজ সরবরাহের অংশীদারিত্ব বাড়াতে কাজ করছে, যা চিনের উপর নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহ চেইন বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত।
মার্কিন এবং কঙ্গোর নেতারা গত বছর কৌশলগত অংশীদারিত্ব করে এই খনিজের ব্যাপ্তি বাড়ানোর পাশাপাশি লোবিটো করিডর নামে একটি রেলপথ প্রকল্পেও সম্মত হন, যা মাইনিং এলাকা থেকে অ্যাঙ্গোলার আটলান্টিক উপকূলে সংযোগ স্থাপন করবে। চিনা কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে কঙ্গোর খনিজ শিল্পে প্রভাব বিস্তার করে আসছে, যেখানে তারা ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া বুন্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে ২,০৭৩ জন আক্রান্ত এবং ৭৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, তারা মহামারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খনিজ অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কঙ্গোতে মার্কিন দূতাবাস নতুন স্বাস্থ্যবিধি ঘোষণা করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রফেরত নাগরিকদের অন্য কোনো দেশে ২১ দিন কাটানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা মহামারির প্রভাব এবং দেশটির সাথে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ইবোলা মহামারি কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শিল্পকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না করলেও, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অপরিহার্য খনিজ সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিনা আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার মহাকৌশলকে এই স্বাস্থ্য সংকট বড় ধাক্কা দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খনিজ সরবরাহ চেইনে পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, আফ্রিকার এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য সংকট একত্রে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কঙ্গোর খনিজ সম্পদের ব্যবহার এবং বৈশ্বিক শক্তি ও প্রযুক্তি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।