যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য ২২০ মিলিয়ন নির্বাচনী তথ্য চুরি করার অভিযোগ তুলেছেন, যা চীন কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই অভিযোগ এসেছে এমন এক সময়ে যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে সফর করার পরিকল্পনা করছেন এবং দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থির বাণিজ্য সমঝোতা চলছে।
ট্রাম্পের এই তীব্র অভিযোগে বলা হয়েছে, চীনের গোয়েন্দা সংস্থা একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করে মার্কিন ভোটারদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং রাজনৈতিক দলের সদস্যপদসহ ২২০ মিলিয়ন ভোটার ফাইল চুরি করেছে। তিনি এটিকে 'একটি অভূতপূর্ব নির্বাচন নিরাপত্তা সংকট' এবং মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে 'সবচেয়ে বড় ডেটা লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেন। তবে ট্রাম্প কোনো প্রতিশোধের পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।
চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চাং এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, "চীন কখনোই এবং কখনোই মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।" নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পক্ষ থেকে ভোটার ডেটা সংগ্রহের প্রচেষ্টা অনেক বছর ধরে জানা ছিল। যেখানে অনেক ভোটার তথ্য অনলাইনে সহজে ডাউনলোড বা কেনা যায়, যা ভোটারদের সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে কিন্তু ভোট প্রভাবিত করতে সক্ষম নয়।
সাদা বাড়ির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনিয়র সাইবার গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস পোর্টার উল্লেখ করেছেন যে চীন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রভাব কমানোর জন্য কিছু সীমিত পর্যায়ের কাজ করেছে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই। এই অভিযোগ শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, চীন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে উপ-বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মা ঝাওশুকে পাঠাবে সফরের প্রস্তুতি নিতে। রয়টার্স সতর্ক করেছে, ট্রাম্পের এই অভিযোগগুলো মার্কিন-চীনা সম্পর্ক আরও অবনতি করতে পারে এবং বাণিজ্য বিরতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ট্রাম্পের এই অভিযোগ মার্কিন-চীনা সম্পর্কের জটিলতা এবং বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ ও পরবর্তী আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফর সামনে। পাশাপাশি, এই অভিযোগগুলো নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের ওপর সমসাময়িক উদ্বেগকে বাড়িয়ে তোলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিবাদ কেবলমাত্র বাণিজ্য নয়, সাইবার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে।