ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুগলের বিরুদ্ধে আরোপিত ৪.৬ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা দিয়ে ২০২৬ সালের বাজেটের চাপ হ্রাস করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ এসেছে ইউরোপীয় ব্লকের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পটভূমিতে।

২০১৮ সালে ইউরোপীয় কমিশন গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে, তারা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের বাজার প্রাধান্য অপব্যবহার করে স্মার্টফোন নির্মাতাদের গুগল সার্চ এবং ক্রোম আগেই ইন্সটল করার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে, এই মাসের শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আদালত জরিমানার সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখে।

এই জরিমানার অর্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ বাজেটে জমা পড়বে, যা সদস্য দেশগুলোর মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত অবদান কমিয়ে দেবে। তবে এই অর্থ সরাসরি করদাতাদের উপকারে আসবে না, কারণ সামাজিক ব্যয় কমিয়ে সামরিক বাজেট এবং ইউক্রেনের তহবিলে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।

২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের ৩.৬ শতাংশে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ব্রাসেলস ইতোমধ্যেই ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনের সহায়তায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ অনুমোদন করেছে, যেখানে নাইটো সদস্য দেশগুলো ২০২৭ সালেও সামরিক ও প্রশিক্ষণ সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনুমানিক হুমকিকে সামনে রেখে ইউরোপীয় সরকারগুলো সামরিক ব্যয় বাড়ানোর নির্দেশ পেয়েছে। রাশিয়া এই দাবিগুলোকে 'অমূলক' ও সামরিক বাজেট বৃদ্ধির জন্য সামাজিক খরচ কমানোর অজুহাত বলেছে। ফ্রান্সের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো কেটে সামরিক খাতে ৬.৫ বিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত বরাদ্দ দিচ্ছে।

কয়েকটি দেশ, যেমন হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া, ইউক্রেনকে অবাধ সমর্থনের আর্থিক ভার সাধারণ ইউরোপীয় নাগরিকদের ওপর চাপানোর অভিযোগ তুলেছে। হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান এই নীতিকে 'আর্থিক ট্র্যাজেডি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো রাশিয়ার শক্তি উৎস বন্ধ করার পরিকল্পনাকে 'অর্থনৈতিক আত্মহত্যা' হিসেবে আখ্যায়িত করে ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত সামরিক ঋণের বিরোধিতা করেছেন।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

গুগলের বিরুদ্ধে আরোপিত এই বিশাল জরিমানাটি শুধুমাত্র একটি কর্পোরেট মামলা সমাধান নয়, বরং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য বাজেট চাপের মধ্যে এই অর্থ প্রবাহ কিছুটা প্রশমন নিয়ে এসেছে। তবে সামাজিক খাতে কাটছাঁট এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ ইউরোপীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো কিভাবে এই সংকট মোকাবেলা করবে তা আগামী বছরগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে যাচ্ছে।

Walton Ads