যুক্তরাজ্যের কোভিড-১৯ মহামারীর সময় করদাতাদের কোটি কোটি পাউন্ড অর্থ অপচয় হয়েছে, যা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে ফাঁস হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্য কোভিড-১৯ তদন্তের পঞ্চম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও সিস্টেমিক ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। প্রায় ১৪.৯ বিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) খরচ বৃথা হয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত পিপিই, ভেন্টিলেটর এবং পরীক্ষার সরঞ্জামে যুক্তরাজ্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মোট ব্যয় ৪২ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়েছে। সাবেক বিচারক ব্যারোনেস হেথার হ্যালেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্তে বলা হয়েছে, জরুরি কেনাকাটা এবং বিতরণ পরিকল্পনা অপরীক্ষিত ও অপর্যাপ্ত ছিল, ফলে যুক্তরাজ্য এই প্রতিযোগিতায় প্রস্তুত ছিল না।

তদন্তে আরও উল্লেখ হয়েছে, মহামারীর শুরুতে দেশের পিপিই মজুদ অনেকটাই অপ্রচলিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও পরিচর্যা কর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম না পাওয়ায় তাঁরা কখনো কখনো আবর্জনার ব্যাগ, শাওয়ার ক্যাপ এবং অনলাইনে কেনা সামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দফতরের কর্মকর্তা তদন্তে বর্ণনা দিয়েছেন, ভেন্টিলেটরের বাজার ছিল এক ধরনের 'ওয়াইল্ড ওয়েস্ট', যেখানে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে সরবরাহ সংকটে সরকারগুলোকে চাপে ফেলেছিল। এই প্রতিবেদনে উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের রেফারেন্সে দ্রুত সরবরাহ পাওয়ার জন্য তৈরি 'ভিআইপি লেন'কেও সমালোচিত করা হয়েছে। হ্যালেট এটিকে 'ভূলভাবে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টা' বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা অন্যায় ও জনবিশ্বাসের অবনতি ঘটিয়েছে।

তদন্তের আগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মহামারীর সময় সরকারগুলি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় হাজার হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার 'বিষাক্ত ও বিশৃঙ্খল সংস্কৃতি'ও উঠে এসেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তার ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের দ্বারা প্রভাবিত বা ব্যাহত হত।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই প্রতিবেদনের ফলাফল সরকার ও জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে যে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা কতটা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে মহামারী বা দুর্যোগ মোকাবিলায় এই ধরনের ব্যর্থতা প্রতিরোধ করতে নীতিনির্ধারকরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তদুপরি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে এধরনের তদন্ত ও প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Walton Ads