জার্মানির শাসক দলের পার্লামেন্টারি নেতা জেন্স স্পাহন তাঁর স্বামীর সঙ্গে surrogacy পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, স্পাহন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যিনি আগে এই পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করতেন এবং জার্মানিতে এটি বেআইনী বলে দাবি করতেন।
স্পাহন এবং তাঁর স্বামী ড্যানিয়েল ফাঙ্কে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে surrogacy পদ্ধতিতে তাদের ছেলে জর্জের জন্ম দিয়েছেন, যা দেশীয় রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। স্পাহন Bild পত্রিকাকে বলেছেন, “জর্জ আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। এই অনুভূতিটি শব্দে প্রকাশ করা কঠিন।”
তবে এই সুখবর প্রকাশের সাথে সাথেই সমালোচনার ঝড় ওঠে, যেখানে স্পাহনের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বা ‘বদলামী’ আচরণের অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে তিনি GQ ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, “একজন গে মানুষ এবং খ্রিস্টান হিসেবে আমি ‘কেনা ভাড়া’ ধারণার প্রতি মানসিকভাবে মানিয়ে নিতে পারিনি।”
স্পাহনের দল, কনজারভেটিভ ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (CDU), ফেব্রুয়ারিতে তাদের সম্মেলনে স্পষ্ট করেছিল যে, জার্মানিতে surrogacy নিষিদ্ধ থাকা উচিত কারণ এতে নৈতিক, আইনগত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে। দলটি আশঙ্কা করে এই পদ্ধতি অপব্যবহার ও শোষণের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
পরিস্থিতির উত্তেজনা বাড়তেই CDU-র এক শীর্ষ নেতা স্পাহনের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে, ডানপন্থী পার্টি আল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD)-র সহ-নেত্রী এলিস ওয়েইডেল স্পাহনের পদত্যাগকে দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেন।
স্পাহন শেষ পর্যন্ত শনিবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন যদিও তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াননি। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্চ এই পদক্ষেপকে ‘অপরিহার্য’ এবং ‘সঠিক’ বলে মন্তব্য করেন।
জার্মানিতে surrogacy আইনি নিষেধাজ্ঞায় থাকলেও চিকিৎসক এবং মধ্যস্থতাকারীদের সাজার আওতায় আনা হয়, commissioning বা বিদেশ থেকে surrogacy করানো গ্রাহকদের নয়। তাই স্পাহন ও তাঁর স্বামী আইনি কোনো সমস্যায় পড়বেন না।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা জার্মানির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার একটি জটিল দিক তুলে ধরেছে। একটি শীর্ষ রাজনীতিবিদ যে surrogacy-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও নিজ জীবনে তা গ্রহণ করেছেন, তা নৈতিকতা ও রাজনীতির মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রতীক। এটি জার্মানির surrogacy আইন ও লিঙ্গ ও পরিবার বিষয়ক নীতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
এছাড়া, এই বিতর্ক গে অধিকার, পারিবারিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনাকে ত্বরান্বিত করেছে। ভবিষ্যতে জার্মানিতে surrogacy পদ্ধতির বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে আরও বিতর্ক ও আইনি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।