ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আইডিএফ হেফাজতে ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ বন্দিদের মৃত্যুর ৫৭টি তদন্ত শুরু করলেও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেনি, জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হাারেতজ। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে হাারেতজের দাবি অনুযায়ী, এই তদন্তগুলো ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ বন্দিদের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে পরিচালিত হয়েছিল।

তদন্তগুলোর মধ্যে সাতটি ক্ষেত্রে বন্দিদের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনাই ঘটেছে আইডিএফের সিসিটিভি ক্যামেরাযুক্ত সামরিক কারাগারে। তবে, হাারেতজ জানিয়েছে, অধিকাংশ মামলায় সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা অভিযুক্ত করা হয়নি।

আরো ১৯টি তদন্ত শুরু হয়েছিল বন্দিদের প্রতি নির্যাতন, সহিংসতা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের অভিযোগে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল, যাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আইডিএফ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

২০১৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি আইডিএফের নির্যাতনের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। সাম্প্রতিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছিল এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে অর্ধনগ্ন ও চোখে পাটিওড়া লাগানো অবস্থায় লোহার রডে বাঁধা। আইডিএফ এই ছবির সত্যতা স্বীকার করে তদন্ত শুরু করেছে। মানবাধিকার সংস্থা ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল আইডিএফের কারাগারগুলোকে 'যন্ত্রণা শিবির' হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, চলতি বছরের মার্চে আইডিএফ সেইসঙ্গে এক ফিলিস্তিনি বন্দির যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সৈন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে। অপরাধ প্রমাণের অভাব ও প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘‘ইসরায়েল তার শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, তার সাহসী সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয়।’’

গত মাসে ইতালি ও ফ্রান্সেও তদন্ত শুরু হয়েছে, যেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সময় গাজায় আটককৃত কর্মীদের প্রতি আইডিএফের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, আটককৃতদের নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

Walton Ads