ব্রিটেনের পিডিংটন গ্রামের বাসিন্দারা সরকার কর্তৃক অবৈধ অভিবাসীদের জোরপূর্বক বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জানিয়ে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, মাত্র ৩৭০ জনের ছোট এই গ্রামে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এক হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী স্থায়ী হতে চলায় স্থানীয়রা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ব্রিটেনের হোম অফিস জুন মাসের শেষদিকে ঘোষণা দেয় যে, পিডিংটনের বাইরে অবস্থিত একটি খালি সামরিক গুদামকে একক পুরুষ অভিবাসীদের থাকার জন্য হোস্টেল হিসেবে রূপান্তর করা হবে। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তাদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অবজ্ঞার অনুভূতি তৈরি করেছে।

পিডিংটন গ্রামে দোকানপাট, পাব কিংবা পুলিশ ফোর্স নেই, ফলে তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য সম্পূর্ণরূপে বাইরের সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের মতে, এটি আশ্রয়প্রার্থী সমস্যা নয়, বরং তাদের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। অবৈধ পুরুষ অভিবাসীদের সঙ্গে নারী ও শিশুদের মেশানো হবে না বলে জানানো হলেও, নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনের অবহেলার কারণে তারা আতঙ্কিত।

গ্রামের প্যারিশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান টিম ম্যাকন্যালি গণভোটের ফলাফলকে ‘‘অসাধারণ’’ বলে বর্ণনা করেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার অংশগ্রহণে ৯৬ শতাংশ ভোটে গ্রামবাসীরা ব্রিটেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে সায় দিয়েছে। তিনি বলেন, "স্ব-নির্ধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং যখন তারা উপেক্ষিত হয়, তখন এই ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক।"

গ্রামের বাসিন্দা গ্রাহাম রিক্সন বলেন, "৩৫০ জনের গ্রামে হঠাৎ ১২০০ অভিবাসী পাঠানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।" তিনি আরও বলেন, "এই সিদ্ধান্ত গোপনে নেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।"

এই গ্রামে নিরাপত্তার অভাব এবং অভিবাসীদের সন্ধ্যার পর বিনোদনের খোঁজে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। স্থানীয়রা তাদেরই বাড়িতে বন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে।

এমন পরিস্থিতি শুধুমাত্র পিডিংটনেই সীমাবদ্ধ নয়। মডার্নিটি নিউজ জানিয়েছে, ১৫০ জনের এক গ্রামে ১২১ জন অভিবাসীকে এমন একটি এলাকায় রাখা হয়েছে যা শিশুদের খেলার মাঠ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত।

সাফোকের বার্নহ্যাম গ্রামেও একই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন, যেখানে ৫০০ জনের বেশি বাসিন্দাদের নিকটবর্তী একটি পুরনো রায়াল এয়ার ফোর্স স্থলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা চলছে। এই এলাকাটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ক্ষেত্রের খুব কাছাকাছি।

গ্রামবাসীরা এখন রাতের বেলা দরজা বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন এবং অচেনা মানুষের সাথে সাবধানে মিশতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা গোষ্ঠী গঠন করে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

ক্রোবরো শহরের গ্যুয়েন গেরান্স বলেন, "সরকার আমাদের নিরাপত্তার কথা ভাবছে না, অবৈধ অভিবাসীদের আরও পাঠানো হচ্ছে। তাই আমাদের নিজেদের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা আর এই কোণঠাসা অবস্থায় থাকতে চাই না।"

এখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ব্রিটিশ সরকার কি জনগণের এই আহ্বানকে গুরুত্ব দেবে এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করবে, নাকি আগের মতোই অব্যাহত রাখবে? ইতিহাসের আলোকে দেখা গেছে, স্বাধীনতার দাবিতে রক্তপাতসহ বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং সরকারের উচিত জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

পিডিংটনের গণভোট যদিও প্রধানত প্রতীকী, তবুও এটি ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন। দেশের অন্যান্য বহু গ্রামও একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে, যেখানে জনগণ সরকারী উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠবে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ


পিডিংটনের ঘটনা ব্রিটেনে অভিবাসন সংকটের একটি ক্ষুদ্র চিত্র তুলে ধরে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট গ্রামগুলোতে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী আসার ফলে স্থানীয় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, সামাজিক সংঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সরকারী নীতিমালা ও স্থানীয় মতামতের মধ্যে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়লে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সাম্যতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ও সহানুভূতিশীল নীতিমালা প্রণয়ন অপরিহার্য।

Walton Ads