ইয়েমেনের ইরানপৃষ্ঠপোষক হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে, যা দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই ঘোষণাটি সৌদি সমর্থিত সরকারের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসেছে।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি সমর্থিত বাহিনী একটি হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের তেহরান থেকে আসা হুতি প্রতিনিধি দলের বিমানের অবতরণ বাধা দেয়া। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “আমরা অবিলম্বে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে ভিত্তি করে নৌ অবরোধ শুরু করছি।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, সৌদি আরব যদি আরও কোনও ভুল পদক্ষেপ করে, তাহলে তারা ব্যাপক ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে।
সৌদি বিদেশ মন্ত্রণালয় হুতিদের এই নৌ অবরোধকে 'সন্ত্রাসী কার্যকলাপ' হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের জাহাজ রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে শিয়াকেন্দ্রিক হুতি আন্দোলন রাজধানী সানা দখল করে। এক বছর পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পক্ষে হস্তক্ষেপ শুরু করে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যা ইয়েমেনের মানবিক সংকট তীব্রতর করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের বাসস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।
এই সংঘাতের জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালে তারা লাল সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে, যা তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির পর এসব হামলা অনেকাংশে কমে গিয়েছিল।
লাল সাগর, যা সুয়েজ খালিয়ান এবং বাব এল-মানদেব প্রণালীয়ের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুতিদের এই নৌ অবরোধ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন হরমুজ প্রণালী, যা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথ, মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দশম রাত জুড়ে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির প্রায় অবসান নির্দেশ করে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানী সরবরাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। লাল সাগরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে এবং সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন ধাপে প্রবেশ করলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।