ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহকারী ইতালির কারখানায় হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণ! অন্যদিকে, রাশিয়ার ভেতরে ড্রোনের তাণ্ডবের পাল্টা জবাব হিসেবে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার মিলিটারি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ (Lavrov) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের সন্ত্রাসের জবাবে রাশিয়া এখন আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিচ্ছে।

ইতালির কোলেফেরো (Colleferro) এলাকায় অবস্থিত একটি শক্তিশালী অস্ত্র কারখানায় ঘটে গেল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এই কারখানাটি ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী কেএনডিএস (KNDS)-এর মালিকানাধীন। মজার বিষয় হলো, এই কারখানাটি ইউক্রেনীয় মিলিটারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একশ পঞ্চান্ন মিলিমিটারের আর্টিলারি শেল তৈরি করত। এই বিস্ফোরণটি যুদ্ধের অস্ত্র সরবরাহ চেইনে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের ঘটনার সময় কারখানায় চব্বিশ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় মেয়র জুলিও কালামিতা (Giulio Calamita) জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে অনেক কর্মী কারখানায় ছিলেন না, যা বড় ধরনের ট্র্যাজেডি এড়াতে সাহায্য করেছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরএআই (RAI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি এবং কর্মীরা নিরাপদে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে কারখানার পেছনে আগুনের শিখা দেখা গেছে। এরপর একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে কোনো নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং গোয়েন্দারা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন।

কোলেফেরোর এই কারখানাটির ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং আগে এখানে অস্ত্র উৎপাদনের সাথে যুক্ত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুই হাজার সাত সালে মিউনিশন প্যাকেজিং লাইনে বিস্ফোরণে একজন কর্মী নিহত হয়েছিলেন। আবার ঊনিশশ আটত্রিশ সালের ঘটনার ভয়াবহতা ছিল অকল্পনীয়, যেখানে ষাট জন নিহত ও পনেরোশ জন আহত হয়েছিলেন। অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সাইটটি সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রাশিয়ার মিলিটারি নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। শুক্রবার মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত ইজমাইল (Izmail) বন্দরের রেল হাব ধ্বংস করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় মিলিটারির সামরিক কার্গো ও জ্বালানি খালাস, মজুত ও পরিবহনের কাজে এই রেলওয়ে অবকাঠামো ব্যবহৃত হতো, যা রাশিয়ার ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগের রাতেও এই বন্দরের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। ইজমাইলের পাশাপাশি রেনি (Reni) বন্দরের সামরিক কমান্ড পোস্টেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার বাহিনী। দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত এই বন্দরগুলো ইউক্রেনের লজিস্টিক সাপ্লাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণসাগর রুটে রাশিয়ার চাপের মুখে এই নদীপথগুলোই এখন ইউক্রেনের প্রধান ভরসা।

ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলার জবাবে মস্কো এখন রাশিয়ার বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। রাশিয়ার দাবি, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের বারবার হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান। ইউক্রেনের নেতা জেলেনস্কি (Zelenskyy) গত মাসে চল্লিশ দিনের একটি চাপ সৃষ্টির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টা রাশিয়াকে টলাতে পারেনি, বরং রাশিয়ার জবাব আরও ভয়াবহ হয়েছে।

পাশাপাশি, লাটভিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশকারী একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট (Allison Hart) জানিয়েছেন, লিথুয়ানিয়া থেকে আসা ইতালীয় ইউরোফাইটার এবং এস্টোনিয়া থেকে আসা তুর্কি এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমানগুলো লাটভিয়ার আকাশে ড্রোনটি ভূপাতিত করে। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলার চেষ্টা করছিল।

লাটভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কারসাজিতে ড্রোনটি লাটভিয়ার আকাশে প্রবেশ করেছিল। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত চলবে, ততক্ষণ এমন ঘটনা বারবার ঘটতে পারে। তবে মস্কো সবসময় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের সামরিক কার্যক্রমের যৌক্তিকতা তুলে ধরছে।

এদিকে রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে এক রাতে চুয়ান্নটি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেনকো (Aleksandr Drozdenko) জানিয়েছেন, এই হামলায় বাল্টিক সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর উস্ত-লুগাতে (Ust-Luga) আগুন ধরে যায়। তেল শোধনাগারের কাছে হওয়া এই আগুন কয়েক ঘণ্টা পর নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। কোনো প্রাণহানি না হলেও রাশিয়ার অবকাঠামোর ওপর এমন হামলা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এক সপ্তাহে তারা প্রায় ছয়শ ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। মস্কো বরাবরই ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, যুদ্ধের ময়দানে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতেই কিয়েভ রাশিয়ার ভেতরে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নিশানা বানাচ্ছে। রাশিয়ার বাহিনী এই হামলার কড়া জবাব দিতে এখন অনেক বেশি সক্রিয়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ (Lavrov) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের সন্ত্রাসের জবাবে রাশিয়া এখন আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়া কিয়েভের যুদ্ধযন্ত্রের সব রসদ ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। লাভরভের মতে, পশ্চিমাদের দেওয়া অস্ত্রের মাধ্যমেই ইউক্রেন রাশিয়াকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু রাশিয়া এই চাপ সহ্য করবে না এবং লড়াই চালিয়ে যাবে।

লাভরভ আরও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বর্তমান ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ থামানোর কোনো প্রস্তাবই রাশিয়া গ্রহণ করবে না। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি মানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়ের বিজয়ের অবমাননা। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়ার স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না এবং ইউক্রেনের কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের লবিংয়ের কারণে বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেইকা (Leica) রাশিয়ান ফটোগ্রাফার ভ্যালেরি মেলনিকভকে (Valery Melnikov) তাদের পুরস্কারের শর্টলিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে। মেলনিকভ অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে চাপ আসায় লেইকা তার কাজ ‘মারিউপোল. ওপেন উন্ডস’ (Mariupol. Open Wounds) প্রকল্পটি বাতিল করেছে। এটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক সেন্সরশিপের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে মস্কো।

মেলনিকভ জানিয়েছেন, তার কর্মজীবনের তথ্য সবার জানা থাকা সত্ত্বেও এই নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এই প্রকল্পটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রাশিয়ান সংস্কৃতিকে পুরোপুরি বাতিল করার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং এটি পশ্চিমা জগতের সংকীর্ণ মানসিকতার প্রকাশ।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তারা ইউক্রেনের আটটি গ্রাম ও শহর দখলমুক্ত করেছে। খারকভ, জাপোরিজিয়া এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার বাহিনী সফল অভিযান চালিয়ে এই এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করেছে। রাশিয়ার প্রতিটি ব্যাটলগ্রুপ বর্তমানে তাদের নিজ নিজ এলাকায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

রাশিয়া গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চৌদ্দটি প্রিসিশন স্ট্রাইক চালিয়েছে। এই হামলায় ড্রোন উৎপাদনের কর্মশালা এবং সামরিক মজুত কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া, ইউক্রেনের ভাড়াটে সেনাদের আস্তানাগুলোতেও সফলভাবে আঘাত হেনেছে রাশিয়ার বাহিনী। যুদ্ধের সব রসদ ধ্বংস করার মাধ্যমে তারা ইউক্রেনের সক্ষমতা পঙ্গু করে দিতে চাচ্ছে।

শুধু স্থলপথেই নয়, সমুদ্রপথেও ইউক্রেনের লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ১৫টি জাহাজ ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ট্যাঙ্কার, ড্রাই কার্গো শিপ এবং টহল জাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য জ্বালানি ও সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো বলে জানায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর।

ব্যাটলগ্রুপ নর্থ (Battlegroup North) গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রায় ষোলশ সেনা সদস্যকে পরাস্ত করেছে এবং তাদের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে রাকের-সা-টুয়েলভ (RAK-SA-12) মাল্টিপল রকেট লঞ্চার এবং চৌদ্দটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন রয়েছে। ইউক্রেনের mechanised brigade ও motorized infantry brigade গুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্টের (Battlegroup West) এলাকাতেও ইউক্রেনের সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জামের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তারা ইউক্রেনের ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও counterbattery রাডার স্টেশনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের territorial defence brigade গুলোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে তাদের পিছু হটতে হয়েছে, যা রাশিয়ার সামরিক কৌশলের সাফল্যকে ইঙ্গিত করে।

ব্যাটলগ্রুপ সাউথ (Battlegroup South) ইউক্রেনের আরও চৌদ্দশ সেনা সদস্যকে পরাস্ত করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের অভিযানের ফলে ইউক্রেনের বিমান হামলা ইউনিট এবং মাউন্টেন অ্যাসল্ট রেজিমেন্টগুলো বিপর্যস্ত। জ্বালানি ও লজিস্টিক সরঞ্জামসহ ইউক্রেনের বিশাল সামরিক সরঞ্জাম এখন রাশিয়ার বাহিনীর দখলে। তাদের এই জয়যাত্রা যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট।

ব্যাটলগ্রুপ সেন্টারের (Battlegroup Center) একক প্রচেষ্টায় আড়াই হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন। ডোনেৎস্ক পিপল’স রিপাবলিকের গ্রামগুলো দখলের মাধ্যমে তারা তাদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। রাশিয়ার এই বাহিনী ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড এবং মেকানাইজড ব্রিগেডের শক্ত প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে, যা রাশিয়ার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ।

ব্যাটলগ্রুপ ইস্টের (Battlegroup East) এলাকাতেও ইউক্রেনের সেনারা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। আড়াই হাজারেরও বেশি সেনা সদস্য এবং পঁচিশটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে। ইউক্রেনের এয়ার অ্যাসল্ট ও মেকানাইজড ব্রিগেডগুলোর আক্রমণের চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়ে রাশিয়া তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করেছে। পূর্ব রণাঙ্গনে ইউক্রেনের অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক।

নিপ্রো (Dnepr) ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় দুইশ বিশ ইউক্রেনীয় সেনা এবং বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গত এক সপ্তাহে প্রায় সাত হাজার ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ৬৪টি স্মার্ট বোমা ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের হাইমার্স (HIMARS) এবং অন্যান্য মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমেও আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ছয়শ তিয়াত্তরটি যুদ্ধবিমান এবং ত্রিশ হাজারেরও বেশি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। ব্ল্যাক সি ফ্লিটও আটটি ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোন ধ্বংস করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার এই সামরিক অভিযান ইউক্রেনের যুদ্ধযন্ত্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সামরিক শক্তির সামনে ইউক্রেনের টিকে থাকা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।

Walton Ads