মূত্রথলিতে শিলনোড়ার মতো বড় পাথর! অস্ত্রোপচার করে বের করল জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ

বিরাট বড় পাথর। দেখে মনে হবে আস্ত একটা শিলনোড়া। ওজনও কম নয়। প্রায় ৫০০ গ্রাম (Bladder Stone)। অস্ত্রোপচারের সময় চমকে গিয়েছিলেন ডাক্তারবাবুরাও। মূত্রথলিতে এমনই বড় পাথর নিয়ে ঘুরছিলেন যুবক। পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, মূত্রের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসছিল মাঝে মাঝেই। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়েও লাভ না হওয়ায়, শেষে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন যুবক। সেখানেই অভিজ্ঞ ডাক্তার অস্ত্রোপচার করে ব্লাডার থেকে সেই পাথর বের করে প্রাণ বাঁচান যুবকের।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে এই জটিল অস্ত্রোপচার করেছে সার্জন ডা. সঞ্জীব কুমার রায় ও তাঁর টিম। রোগীর নাম অনন্ত শিকদার। বয়স ৩৯ বছর। জলপাইগুড়ি মোহিতনগরের বাসিন্দা অনন্তের দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর ধরে পেটে নানা সময় যন্ত্রণা হত। মামুলি পেট ব্যথা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন অনন্ত (Bladder Stone)। সামান্য কাজ করেন। সংসারে টানাটানি। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তার দেখিয়ে চেকআপ করানোর সামর্থ ছিল না। ইদানীং সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের সঙ্গে মাঝে মাঝেই রক্ত বেরিয়ে আসছিল তাঁর। সেই সঙ্গে পেটে যন্ত্রণাও বেড়েছিল।

 স্থানীয় ডাক্তারকে দেখিয়ে লাভ হয়নি। পরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে আনলে ডাক্তার সঞ্জীব কুমার রায় তাঁকে পরীক্ষা করেন। আলট্রাসোনোগ্রাফি করাতেই ধরা পড়ে মূত্রথলিতে বিশাল মাপের কিছু রয়েছে। অস্ত্রোপচার করাতেই বেরিয়ে আসে শিলনোড়ার মতো বড় একটা পাথর। ওজন নিয়ে দেখা গেছে প্রায় ৫০০ গ্রামের মতো (Bladder Stone)। 
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এইসব ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। তখনই সতর্ক হতে হবে রোগীকে। কোমরে বা তলপেটে ব্যথা, মূত্রে জ্বালা, রঙের বদল হলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। প্রায়ই যদি মূত্রথলি ও প্রস্রাবে সংক্রমণ হয় তাহলেও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে বিনামূল্যেই সার্জারি হয়েছে অনন্ত শিকদারের। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলেই জানা গেছে।


।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২২/একে news