শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দরুন-চরজানা বাইপাস এলাকার খোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করে এই ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যার অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে নিতে হয়। বাংলাদেশের মালিক এই দেশের জনগণ। ১২ তারিখ জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। আল্লাহ চাইলে ভোটের পর ১৩ তারিখ থেকেই দেশ গড়ার কাজ শুরু করব।"
তিনি টাঙ্গাইলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, "এই টাঙ্গাইল থেকে তৈরি তাঁতের শাড়ি-টুপি দেশে-বিদেশে যায়। পরিকল্পিতভাবে চেষ্টা করলে বিদেশের বাজার দখল করা সম্ভব। এখানে প্রচুর আনারস চাষ হয়। টাঙ্গাইলে আবার পাটশিল্প গড়ার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা করে চেষ্টা করলে এই পাটশিল্পকেও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। আজকে আমাদের দেশ গড়তে হলে, ২০ কোটি মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিলের সভাপতিত্বে এই জনসভায় জেলার ৮টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। পরে তারেক রহমান জেলার ৮ প্রার্থীকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেন এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রার্থীরা হলেন: টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
এর আগে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে কয়েক দিনের সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে এবং বিকেলে টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। জনসভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।