যশোর, প্রতিনিধি: আগামী নির্বাচনকে বিতর্কিত করে তোলা ও বাধা দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক দল পুরোপুরি উঠেপড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, "নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে। আপনাদের অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।"

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে বিএনপির এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুরে তিনি খুলনাতেও নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান জনসভায় এক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "একটি দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। দেশের মানুষ যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তখন বাঁচার জন্য বলছেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড হয়েছে! প্রশাসনের লোকজন বলেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। তারা শুধু মিথ্যা কথা বলছে।"

উপস্থিত লাখো সমর্থকের উদ্দেশে বিএনপি নেতা আরও বলেন, "যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের চরিত্র। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তাদের ভূমিকার কারণেই একাত্তরে লাখ লাখ মা–বোন ইজ্জত হারিয়েছেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।"

যশোরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, "যশোরে ফুল চাষ একটি বড় শিল্প। গার্মেন্টসের পোশাক যেমন রপ্তানি হয়, ঠিক তেমনি আমরা চাই এই ফুলও যেন বিদেশে রপ্তানি হয়।"

এই জনসভায় যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার মোট ২২ জন বিএনপি প্রার্থীকে তারেক রহমান জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

এছাড়াও জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম প্রমুখ। যশোরের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর–৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

 

Walton Ads