গুলশানে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়ালেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের মানুষ যদি ঘর থেকে বেরিয়ে নির্ভয়ে ভোট দেন, তাহলে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব বলে জোর দিয়ে বললেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে হাজির হন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।”
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে একটা নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের শুরু করবেন। গত রাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে তিনি জানান। এতে তিনি আশাবাদী বোধ করছেন।
ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, “শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থেকে ভোট দিন। মানুষ যদি সারাদিন ভোটকেন্দ্রে এসে অধিকার প্রয়োগ করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব।”
নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, তিনি ও তার দল জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সম্ভাব্য সরকার গঠনের কথা উঠলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তার ভাষায়, “সাধারণ মানুষ যাতে দেশে নিরাপদ বোধ করেন, সেটিই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই নারীর মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নের কাজ শুরু করা হবে।
ভোটের পরিবেশ কেমন বা নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। “আরও কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে পরে বলতে পারব,” যোগ করেন তিনি।
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটা সুন্দর ও স্থিতিশীল আগামীর প্রত্যাশা জানিয়ে তারেক রহমান বক্তব্য শেষ করেন।